শহীদ মিনারের বেদীতে তৈরী মঞ্চে জুতা পায়ে উঠে বক্তব্য দিলেন লালমনিরহাট ১ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন এমপি।

শুধু তিনিই নন, ইউএনও’সহ সকল অতিথি জুতা পায়ে উঠেছিলেন।

শনিবার (১৮ জানুয়ারী) বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিনে নির্মিত ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

তিস্তার ভয়াল বন্যায় বন্যার্তদের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিনে আশ্রায়ন ভবন নির্মাণের বরাদ্ধ দেয় সরকার। ভবনটি ধবলগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়।

বন্যার সময় বন্যার্তদের ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হবে এবং বাকী সময় শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের উদ্বোধন করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ জন্য ধবলগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের বেদীতে মঞ্চ তৈরী করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি লালমনিরহাট ১ (পাটগ্রাম হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেনসহ সকল অতিথি জুতা পায়ে মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখেন। জুতা পায়ে শদীহ বেদীতে উঠা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, শহীদদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার তৈরী করা হয়েছে। সেই শ্রদ্ধার বেদীতে জুতা পায়ে উঠলে শহীদদের অসম্মান করা হয়। স্বাধীন দেশে কোন রাজাকারও এমন দৃষ্ঠতা দেখাতে পারেনি। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী তথা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদীতে উঠে এমপি মোতাহার হোসেন শুধু শহীদদের অসম্মান করেননি গোটা বাংলাদেশকে অপমানিত করেছেন।

এটা স্বাধিন দেশের নাগরিকদের জন্য লজ্বার। তবে যারা শহীদ মিনারে মঞ্চ করে জুতা খুলে উঠার নির্দেশ দেন নি, সেই আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

ধবলগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মশিউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পুনম চন্দ্র রায় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

জুতা পায়ে শহীদ বেদীতে উঠার বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মশিউর রহমান বলেন, নতুন এসেছি, তাই জানি না মঞ্চটি শহীদ মিনারে করা হয়েছে কি না?। না জেনে উঠেছি।

শহীদ বেদীতে জুতা পায়ে উঠা ঠিক হয়নি। আয়োজকরাও বিষয়টি জানাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট