বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা তাজউদ্দীন আহমদের ৯৪ তম জন্মবার্ষিকী আজ। ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা তাজউদ্দীন আহমদের ৯৪ তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২৫ সালের এই দিনে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাজউদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা রাখেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা ও আদর্শবানদের অনন্য এক প্রতীক তাজউদ্দীন আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি শুরু করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগ হয়েছিল। এরপর থেকে দেশের ভাষার অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী যত আন্দোলন হয়েছে সকল আন্দোলনেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তাজউদ্দীন আহমদ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের (বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। একই সঙ্গে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম উদ্যোক্তাও ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বার বার। ৬ দফা আন্দোলনের এক অন্যতম রূপকারও ছিলেন তিনি।

১৯৭১ সালে এক চরম সংকটময় সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে সফল ভূমিকা পালন করেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হবার পর আরও তিনজন জাতীয় নেতাসহ তাঁকে বন্দী করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর বন্দী অবস্থায় ঘাতকের বুলেটে তিনি নিহত হন।

তাজউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকাল ৪টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি ও দিনপঞ্জি থেকে পাঠ করা হবে।

আজকের পত্রিকা/এসএমএস