কাজী ফয়সাল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

শমী কায়সারের আচরণের প্রতিবাদ। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠান চলার সময় মোবাইল ফোন হারিয়ে ফেলে অভিনেত্রী ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার অনুষ্ঠানটির সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ ওঠায়, এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। ঘটনাটি ঘটে ২৪ এপ্রিল বুধবার।

২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিএফইউজে ও ডিইউজের পক্ষে এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানোর পাশাপাশি শমী কায়সারকে সাংবাদিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। না হলে ভবিষ্যতে তার সংবাদ বর্জনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীর দেওয়া ওই যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, একজন শহীদ সাংবাদিকের মেয়ে হয়ে পিতার পেশার উত্তরসূরীদের ‘চোর’ বলে সম্বোধন করে শমী কায়সার প্রকারান্তরে তার পিতাকেই নিকৃষ্টভাবে অসম্মান করেছেন। শুধু তাই নয়, একজন সেলিব্রেটি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘মোবাইল ফোন হারানোর’ সূত্র ধরে যে আচরণ করেছেন তা সেলিব্রেটিদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার মতো একজন অভিনেত্রী ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়।

ডিউইজে যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বিএফইউজে ও জিইউজে নেতারা এ ধরনের নিকৃষ্টতম দুর্ব্যবহারের জন্য সাংবাদিক সমাজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুবা যত বড় সেলিব্রেটিই হোন না কেনো তার সংবাদ বর্জন করা হবে। প্রয়োজন হলে তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে সাংবাদিক সমাজ নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন করে জাতিকে বিস্তারিত জানাতে বাধ্য হবে।

২৪ এপ্রিল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান চলাকালে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও অভিনেত্রী শমী কায়সার হঠাৎ লক্ষ্য করেন তার দুটো ফোন সেটই খোয়া গেছে। এর পরপরই অনুষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে প্রেস ক্লাবের হলকক্ষ বন্ধ করে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সবার দেহ তল্লাশির নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় যাদের দেহ তল্লাশি হয়েছে তাদের কেউ কেউ পেশাগত কাজে বের হতে চাইলে তার উদ্দেশে ‘চোর’ বলে ওঠেন তিনি। পরে অনুষ্ঠানে থাকা ক্যামেরা পারসনদের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক দিতে আসা লোকদের কেউ একজন তার ফোন নিয়ে চলে গেছে। ঘটনাস্থলে শমী ‘স্যরি’ বললেও এরপর থেকেই সাংবাদিকদের মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শমী কায়সারের আচরণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নিন্দা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।

আজকের পত্রিকা/কেএফ/জেবি