এ সময় সংবাদকর্মীদের দেহ তল্লাশি করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

২৪ এপ্রিল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে নিজের দু’টি স্মার্টফোন চুরি যাওয়ায় প্রায় অর্ধশত সংবাদকর্মীকে আধঘণ্টারও বেশি আটকে রাখলেন অভিনেত্রী ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই- ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার। এ সময় সংবাদকর্মীদের দেহ তল্লাশি করা হয়। এমনকি তার নিরাপত্তাকর্মীও সংবাদকর্মীদের ‘চোর’ বলে মন্তব্য করেন।

এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এই অভিনেত্রী। এদিকে শমী কায়সারের মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের ‘চোর’ সম্বোধন করার কড়া সমালোচনা করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদকর্মীরা। তাদের মধ্যে কেউ শমী কায়সারকে ক্ষমা চাইতে বলেন। তিনি ক্ষমা না চাইলে তাকে বয়কটের ঘোষণাও দেন অনেকেই। কেউবা বলেন, এ ভুল ক্ষমার অযোগ্য, তাকে প্রেসক্লাবে নিষিদ্ধ করা হোক। কেউ জানান, টাকা ও ক্ষমতার জোরে শমী কায়সার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক ও কলামিষ্ট পীর হাবীব লিখেছেন, ‘শমী কায়সারকে সাংবাদিক সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেই হবে, নয় তাকে বয়কট করতে হবে। অভিনেত্রী ও ব্যবসায়ী শমী কায়সার জাতীয় প্রেসক্লাবে বসে পেশাগত দায়িত্বপালনরত সংবাদকর্মীদের আটকিয়ে নিজের দুটি স্মার্টফোন চুরির অভিযোগে নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে দেহ তল্লাশিই করাননি, তারা সংবাদকর্মীদের চোরও বলেন! পরে প্রকৃত চোর ধরা পড়লে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।’

দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধ শেখ মামুনুর রশিদ লিখেছেন, ‘একজন সাংবা‌দিক অভাবী হতেই পা‌রে । বেতন নিয়‌মিত না পাওয়ায় কিংবা বেকার‌ত্বের কারণে সে ক‌ষ্টে থা‌কে। বাসা ভাড়া, বাচ্চার স্কু‌লের বেতন, বউয়ের বায়না মেটানো, বাবা-মা‌-ভাই-বোনের আবদার পূর‌ণে তার সক্ষমতা কম থাকতেই পা‌রে। হয়তো কেউ কেউ উপায় না পেয়ে দুই চার আনা আয়ের বিকল্প ধান্দাও করে । তাই বলে সে ‘চোর’ আ‌মি অন্তত বিশ্বাস ক‌রি না। চোর কারা, চ‌রিত্রহীন কারা, ধান্দাবাজ, দলবাজ, সুযোগসন্ধানী কারা- সমাজের মানুষ জা‌নে’।

এছাড়াও বাসস সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা তাকে বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রায় সকলেই তার এই অশোভন কাজের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছেন।

আজকের পত্রিকা/এসএ/সিফাত