শবে বরাতের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি, সঠিক দিনক্ষণ জানা যাবে ১৭ই এপ্রিল। ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র শবে বরাতের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না করে শেষ হয়েছে তারিখ পুনর্নির্ধারণের জন্য ডাকা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ সভা। অথচ মুসলমানদের বড় এই ধর্মীয় দিনটির জন্য সময় বাকি আছে মাত্র এক সপ্তাহ। তবে তারিখ চূড়ান্ত করার জন্য ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ফাউন্ডেশন। ১৭ এপ্রিলের মধ্যে তারিখ চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে। এপ্রিল মাসের শুরুতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবেবরাত পালনের ঘোষণা দিয়েছিলো।

৬ এপ্রিল শনিবার জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অফিস ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য যাচাই শেষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বাংলাদেশের আকাশে কোথাও আরবি শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি উল্লেখ করে ২১ এপ্রিল রোববার দিবাগত রাতে সারাদেশে লাইলাতুল বরাত উদযাপনের ঘোষণা দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

পরে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় সেদিন একটি মসজিদের ইমামসহ ২/৩ জন চাঁদ দেখেছিলেন বলে দাবি করেন। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা ঢাকায় পাঠানো রিপোর্টে জানান, একজন ছাড়া ওই এলাকায় চাঁদ দেখার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী তিনি পাননি। বিষয়টি সমাধান করতে দেশের আলেম ওলামাদের নিয়ে শনিবার (১৩ এপ্রিল) ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ফের বিশেষ সভা ডাকেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, যারা চাঁদ দেখেছেন বলে দাবি করছেন তাদের কথার মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, লাইলাতুল বরাত সম্পর্কে ঘোষণা দেয়ার পর হটাৎ চাঁদ দেখা বিষয়ক কিছু দাবি উঠতে থাকে। এই দাবির কোন ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

আলেম ওলামাদের সঙ্গে করা বৈঠক থেকে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে না পারায় শবে বরাতের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণে ১০ সদস্যের কমিটি করে দেন মন্ত্রী।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, যে কমিটি দেয়া হয়েছে আগামী ১৭ তারিখের মধ্যে তারা তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। মন্ত্রীর ব্রিফিং শেষে আগত কোন আলেম গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হননি।

১৯৮৮ সালে জর্ডানে আম্মান সম্মেলনে বিশ্বের যে কোনো স্থানের আকাশে হিজরি মাসের নতুন চাঁদ দেখা দিলে স্থানীয় সময় অনুযায়ী যে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাহায্য নিতে বলা হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ এ সিদ্ধান্ত মানলেও বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ এখনও তা অনুসরণ করছে না।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/