এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

নিজস্ব প্রতিবেদক

কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা হাওর-বেষ্টিত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একটি উপজেলা। এর চারদিকেই পানি। এমনকি শীতের সময়েও এখানে যেতে হলে নৌপথের সাহায্য নিতে হয়। এমন একটি স্থানে বর্ষাকাল কতটা সুন্দর আর উপভোগ্য হতে পারে চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।
শুধু বর্ষায় নয়, অষ্টগ্রাম যাওয়া যায় যে কোনও সময়। বর্ষার আগে শীতে অষ্টগ্রামের সৌন্দর্য বাড়তে থাকে। তবে অষ্টগ্রামে যাবার সেরা সময় হল বর্ষা, এটা নিয়ে কারোরই দ্বিমত নেই।
অষ্টগ্রাম উপজেলার উত্তরে কিশোরগঞ্জ জেলার মিটামইন উপজেলা ও ইটনা উপজেলা, দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা, পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা ও হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা, পশ্চিমে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলা ও নিকলী উপজেলা।
মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে ছোট নদী আর হাওর পেরিয়ে যেতে হয় এখানে। দুই পাশে চর, লোকালয় মাঝে ছোট্ট নদী বেয়ে সবকিছু ফেলে নৌকা এগোতে থাকে। শীতকালে একটু পরপর দেখা মিলে পাখির সমারোহ। আর বর্ষায় গেলে পাওয়া যায় খোলা হাওরে ভিজে নেবার সুযোগ। ছোট্ট ছোট্ট দ্বীপের মতো অনেক বাড়িঘর রয়েছে এখানে। সেগুলো আবার বেশ শক্তপোক্ত এবং রঙিন। বোঝা যায়, এখানকার লোকজন বেশ অবস্থা-সম্পন্ন। এসব দ্বীপে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলও নৌকা বা ট্রলার। বিশাল হাওরের মাঝে মাঝে এ যেন এক একটা দ্বীপ।
অষ্টগ্রামে প্রচুর দুধ পাওয়া যায়। এখানকার পনিরও বিখ্যাত। গরুর খাঁটি দুধের চা খেতে খেতে আর আড্ডা দিতে দিতে সময় কখন চলে যায় ঠের’ই পাওয়া যায় না। এখানে কুতুব শাহ মসজিদ নামে অনেক পুরনো মসজিদ রয়েছে। ধারণা করা হয়, ১৬ শতকের শেষদিকে বা ১৭ শতকের প্রথম দিকে একজন বুজুর্গ কুতুব শাহ মসজিদটি তৈরি করেন। পাঁচ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির কারুকাজ অসাধারণ। এত বছর পরেও মসজিদটি মোটামুটি ভালো অবস্থাতেই রয়েছে।