বিমান বাংলাদেশ। ছবি: বিমান

এমনিতে আর্থিক সংকটের মুখে আছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। অনিয়ম-দুর্নীতি ও লোকসানের জন্য বহুল আলোচিত এই প্রতিষ্ঠান গত ১০ বছরে নিজেদের কর্মীদের বিনা মূল্যে ও নামমাত্র মূল্যে প্রায় ৪৮ হাজার টিকিট দিয়েছে। এসব টিকিটের অনুমিত মূল্য অন্তত ৭০ কোটি টাকা।

এ হিসাবে বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকার টিকিট নিচ্ছেন বিমানকর্মীরা। ঢালাওভাবে এ টিকিট দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে গত ১০ বছরে বিমান তার কর্মীদের কত টিকিট দিয়েছে, তার হিসাব তলব করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ জুলাই রবিবার কমিটির বৈঠকে বিমান একটি হিসাব জমা দেয়। তাতে দেখা গেছে, সংস্থাটির বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত অন্তত ৪৭ হাজার ৮৪৫টি টিকিট নিয়েছেন। ৮৫ থেকে ১০০ শতাংশ ছাড়ে তাঁদের এসব টিকিট দেওয়া হয়। কর্মীরা নিজের বা স্বামী–স্ত্রী, পিতা–মাতা ও সন্তানদের নামে এসব টিকিট নিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার একটি লিখিত ব্যাখ্যা পাঠান। তাতে বলা হয়, চাকরির সময়সীমার মধ্যে প্রকারভেদে বিমানের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা বিভিন্ন রেয়াতি টিকিট প্রাপ্য হন। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে একেকজন (নির্ভরশীলসহ) বছরে সর্বোচ্চ ২০টি টিকিট প্রাপ্য হন ৮৫ থেকে ১০০ শতাংশ রেয়াতি হারে।

তবে এভাবে টিকিট দেওয়াকে ঢালাও ও অযৌক্তিক বলে মনে করে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংসদীয় কমিটি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এ বিষয়ে বলেন, ‘এমনিতেই বাংলাদেশ বিমান লোকসানে চলছে। একদিকে টিকিট পাওয়া যায় না, আবার সিট খালি রেখে ফ্লাইট চলে যায়। যাত্রীসেবা বলতে কিছু নেই। এর মধ্যে নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢালাওভাবে বিনা মূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এটি যথাযথ নয়। এটি পর্যালোচনা করা উচিত।’

বিমান সূত্র জানায়, সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শফিকুল ইসলাম চার বছর বিমানের যুক্তরাজ্যের কান্ট্রি ম্যানেজার ছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় সেখান থেকে ২ হাজার ৪৭২টি বিনা মূল্যের টিকিট ইস্যু করা হয়। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাসের টিকিট ছিল ১ হাজার ১৩৬টি এবং ইকোনমি ক্লাসের ছিল ১ হাজার ৩৩৬টি।

এসব টিকিটের মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। এ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এপ্রিলে তাঁকে ওএসডি করা হয়। নিজস্ব কর্মীদের এভাবে বিশাল ছাড়ে টিকিট দেওয়ার নীতিমালা পরিবর্তন করা উচিত বলে মনে করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক।

আজকের পত্রিকা/এমইউ/সিফাত