বাবাকে এই নতুন জীবন দিতে পিছপা হননি উচ্ছল। ছবি: সংগৃহীত

লিভারের কঠিন রোগে আক্রান্ত ছিলেন হাইকোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মামুন। ষাটোর্ধ্ব এই আইনজীবীকে বাঁচাতে প্রয়োজন লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা। দু’ বছর সময় বেঁধেই দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট না করলে বাঁচানো যাবে না, এমনটাও জানিয়ে দেন তারা।

পৃথিবীতে বাবা-মা সন্তানের জন্য যা করে যান, এর ঋণ শোধ করা কোনো সন্তানের পক্ষেই সম্ভব হয় না কখনো। পরিবারের সবাই যখন ভেঙে পড়ছিলেন, ঠিক তখনই আব্দুল্লাহ আল মামুনের ৩০ বয়সী যুবক ছেলে আবদুল্লাহ আল হুবায়ের উচ্ছল নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও বাবাকে এই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে নিজের লিভারের অংশবিশেষ দান করার সিদ্ধান্ত নেন।

বাবাকে চিকিৎসা করানোর জন্য স্বেচ্ছায় অবসর নিতে রাজিও করান উচ্ছল। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সন্তান এবং বেসরকারি টেলিভিশন এসএ টিভি’র মাল্টিমিডিয়া কো-অর্ডিনেটর উচ্ছল বাবার চিকিৎসার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। বাবাকে চিকিৎসা করানোর জন্য স্বেচ্ছায় অবসর নিতে রাজিও করান। চিকিৎসার জন্য বেছে নেন দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালকে। সেখানেই চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় জটিল এক অপারেশন। ডাক্তার সুভাস গুপ্তার নেতৃত্বে টানা ১৪ ঘণ্টার এই জটিল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন ড. গুপ্তা ও তাঁর টিম। সুস্থ হয়ে ওঠেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এর কিছু দিন আগেই আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছোট ভাই লিভার সিরোসিসে মারা গিয়েছিলেন। চোখের সামনে চাচার মৃত্যু দেখে বাবাকে নিয়ে শঙ্কায় পড়ে যান উচ্ছল ও তাঁর পুরো পরিবার। ফলে বাবাকে এই নতুন জীবন দিতে পিছপা হননি উচ্ছল।

এর আগে ভারতের এক তরুণী রাখি দত্তও নিজের লিভারের ৬৫ শতাংশ দান করে বাঁচিয়েছিলেন তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত