গাইবান্ধার (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির আব্দুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ছবি : সংগৃহীত

গাইবান্ধার (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অস্ত্র মামলার রায়ে ওই আসনের সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির আব্দুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ১১ জুন মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে গাইবান্ধার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে বলেন, মামলা দায়ের হওয়ার ৩ বছর চার মাস বিচারকার্য চলার পর মঙ্গলবার আলোচিত এই মামলার এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। সকাল ১১টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৪৩ পৃষ্টার রায় পড়ে শোনান বিচারক। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবদুল কাদের খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণার পর পরেই কাদের খানকে পুলিশ পাহাড়ায় গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতের দেওয়া রায়ের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

দণ্ডিত আসামি আব্দুল কাদের খান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপরহাটি গ্রামের মৃত্যু নয়ান খানের ছেলে। ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রায়ের সময় আদালতে লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তিনিও আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। এসময় রায়ের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ কেরন তিনি। তবে লিটন হত্যা মামলার বিচার কার্য দ্রুত শেষ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কাদের খানের সুন্দরগঞ্জের ছাপরহাটির গ্রামের বাড়ির উঠানের মাটির নিচ থেকে একটি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি কাদের খানের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে (অস্ত্র আইনে) সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষ ৩৯ দিন পর ৫ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা কাদের খানকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ ৩ বছর প্রায় চার মাস মামলার বিচারকার্য চলে আদালতে।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লিটনকে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার নিজের বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরের বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থেকে গ্রেফতার হন আব্দুল কাদের খান।

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব