আরভ আপ্পুকুট্টান এবং সুকন্যা কৃষ্ণা।

মুম্বাইয়ে একটি হাসপাতালে লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে গিয়েছিলেন দুই জেণ্ডার রুপান্তরকারী। আরভ আপ্পুকুট্টান এবং সুকন্যা কৃষ্ণা। সেখানেই তাদের প্রথম পরিচয়। পরে বন্ধুত্ব এবং ধীরে ধীরে প্রেম। এক পর্যায়ে আইনি বাধা পেরিয়ে চলতি বছরের ২০ মার্চ দু’জনে বিয়ে করে সংসার করছেন।

আনন্দবাজার পত্রিকা ও আউটলুক জানায়, ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে প্রথম কথা হয় আরভ আপ্পুকুট্টান এবং সুকন্যা কৃষ্ণার। ৪৬ বছরের আরভ শরীরে নারী হলেও লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষ হতে চান। আর সুকন্যা ঠিক তার উল্টো। আরভ জানিয়েছেন, হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে তাঁদের প্রথম দেখা। সমাজ ও পরিবারের চোখ রাঙানি এড়িয়ে তখন দু’জনেই এসেছেন তাঁদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে। ফলে চুড়ান্তভাবে মানসিক টানাপোড়েনে ভুগছিলেন দু’জনেই। সেখান থেকেই পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ জন্মায়। তাঁর কথায়, ‘অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে নিয়মিত যেতে হত। সেখানেই আলাপ সুকন্যার সঙ্গে। আমরা একে অপরকে পছন্দ করতাম।

সুকন্যার কথায়, ‘‘সমাজে রুপান্তরকারীরা বরাবরই ব্রাত্য বঞ্চিত হতে হয় তৃতীয় লিঙ্গদেরও। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগকেই ভিক্ষাবৃত্তি করতে হয়। কেউ আবার জড়িয়ে পড়েন দেহব্যবসায়। সন্তান নিয়েও রাপান্তরকামী দম্পতিদের অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ’’ তবে সন্তান আগামীতে হলে দত্তক নিতে চান বলে জানান সুকন্যা। তিনি জানান, আমরা আমাদের প্রেমকে স্বীকৃতি দিয়ে সমাজের কাছে একটা দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে চাই। সবাইকে শোনাতে চাই আমাদের গল্প। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ’’

আইনি পথেই নিজেদের বিয়েকে স্বীকৃতি দিতে চান আরভ এবং সুকন্যা। তার আগে সরকারিভাবে কাগজে-কলমে অনেক বাধা পেরোতে হবে বলে জানিয়েছেন ২১ বছর বয়সী সুকন্যা। সব সমস্যা মিটে গেলে কেরলে গিয়েই সাত পাকে বাঁধা পড়েন তারা।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস