হলুদ কলার থেকে লাল কলা খেতে বেশি সুস্বাদু ও অধিকতর মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত

কলা সুস্বাদু ফল, এতে ভিটামিন, মিনারেল, পুষ্টি, এবং ফাইবার প্রচুর পরিমানে বিদ্যমান। প্রতিদিন একটি বা দুইটি কলা আপনার পাচককে উন্নত করতে, রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দিতে এবং প্রচুর শক্তি সরবরাহ করতে পারে। এছাড়াও কলা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

বেশিরভাগ মানুষই হলুদ কলার সঙ্গে পরিচিত, অনেকেই লাল কলা সম্পর্কে জানেন না। লাল কলার খোসা লাল-বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। এটি যখন পেকে যায় তখন এর ভেতরের রঙ গোলাপি রঙের হয়ে থাকে। হলু্দ কলার থেকে লাল কলা খেতে বেশি সুস্বাদু ও মিষ্টি। খেতে কিছুটা বেরির মতো।

একটি কলায় তুলনামূলকভাবে কম ক্যালোরি এবং কার্বস থাকে। এছাড়াও এতে রয়েছে পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬। এই কলা শুধুমাত্র খেতেই সুস্বাদু নয়, এর খোসায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য। হলুদ কলার থেকে এই কলায় ডোপামিনের মাত্রাও অনেক বেশি।

পুষ্টিগুণ

একটি ছোট কলায় রয়েছে ৯০ ক্যালোরি ও ২৩ গ্রাম কার্বস। ছবি: সংগৃহীত

এই কলাগুলো অত্যন্ত পুষ্টিকর, কারণ এতে চিনি ও গ্লাইসেমিকের পরিমান অনেক কম। তবে ভিটামিন ও মিনারেলের পরিমান অনেক বেশি। একটি ছোট কলায় রয়েছে ৯০ ক্যালোরি ও ২৩ গ্রাম কার্বস।

ইউনাইটেড স্টেট্‌স ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের মতে, একটি মাঝারি সাইজের কলায় রয়েছে-

  • ১০৫ ক্যালোরি
  • ২৭ গ্রাম কার্বস
  • ৩ গ্রাম ডায়টারি ফাইবার
  • ১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি
  • ৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬
  • ৫ আইইউ ভিটামিন এ
  • ৬ মিলিগ্রাম ফোলেট
  • ৪২২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম
  • ৩ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ

উপকারিতা

হজম শক্তি

কলায় উপস্থিত ফাইবার পচক সিস্টেমকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকরা বলেছেন, কলা হলো পাচক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের অন্যতম উপায়। কারণ এতে স্টার্চ থাকে। এই ধরনের স্টার্চ প্রধানত কাঁচা কলাতে পাওয়া যায়।

যারা ব্যায়াম করে তাদের শক্তির জোগান হিসেবে কলা খুবই কার্যকরী ফল। ছবি: সংগৃহীত

শক্তির উৎস

আপনি যদি প্রতিদিন কলা খান, তাহলে এটি আপনাকে প্রচুর শক্তি যোগান দিবে। গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা ব্যায়াম করে তাদের শক্তির যোগান হিসেবে কলা খুবই কার্যকরী ফল। ব্যায়াম করার আগে একটি কলা খেলে তা শরীরের উপর অক্সিডেটিভ চাপ এবং ব্যায়াম-প্ররোচিত প্রদাহ প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে।

পেশীতে ব্যথা

ব্যায়ামের আগে কলা খাওয়ার আরেকটি উপকার হলো পেশীর ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। কলার পুষ্টির সামগ্রীর গবেষণায় পাওয়া গেছে, কলাতে উপস্থিত পুষ্টির উপাদানগুলি ব্যায়াম-সম্পর্কিত পেশী ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

নিম্ন রক্তচাপ

কলায় পটাশিয়ামের পরিমান বেশি থাকায়, এটি নিম্ন রক্তচাপ রোগীদের জন্য খুব উপকারী।  গবেষণায় বলা হয়েছে, খাদ্যদ্রব্যে পটাশিয়াম পাওয়া গেলে ডায়াস্টিক এবং সিস্টোলিক রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও এটি স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পারে।

রক্তে চিনির পরিমান

আপনি যদি ডায়বেটিক রোগী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার রক্তে চিনির পরিমান সব সময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন সকালে কলা খাওয়ার অভ্যাস করলে রক্তে চিনির পরিমান স্বাভাবিক থাকবে।

দিনে কয়টা কলা খেতে পারবেন?

একটি মাঝারি আকারের কলা রয়েছে ৪২২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। চিকিৎসা সূত্র অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অংশ হিসাবে প্রতিদিন ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম প্রয়োজন। তার মানে দিনে ১১টা মাঝারি সাইজের কলা খেলেও আপনার সমস্যা হবে না। তবে কিডনির সমস্যা বা ডায়বেটিক থাকলে দিনে ২-৩টা কলা খাওয়া ভালো।

আজকের পত্রিকা/রিয়া/সিফাত