আহত ব্যবসায়ী।

বান্দরবান লামায় মো. কামাল (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে ছিনতাইয়ের পর মৃত ভেবে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বুঁড়িরঝিরিস্থ আবু মেম্বারের রাবার বাগানের পাশে রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বুধবার ভোরে বুঁড়িরঝিরি রাস্তা দিয়ে জুমে যাচ্ছিলেন স্থানীয় দুই পাহাড়ি । এসময় তারা রক্তাক্ত অবস্থায় কামালকে পড়ে থাকতে দেখে বাজারে এসে বিষয়টি দোকানদারদের জানায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞান অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে লামা হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং পুলিশকে খবর দেয়।

গুরুতর আহত ব্যবসায়ী মো. কামাল পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বার আওলিয়া নগর গ্রামের সুলতান আহাম্মদের ছেলে।

গজালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিল্লাল হোসেন বলেন, আহত ব্যবসায়ীকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তার পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে। সে এখনো অজ্ঞান থাকায় কোন বিষয় জানা যায়নি। জ্ঞান ফিরলে তার বক্তব্য শুনে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ছিনতাই বলে ধারনা করা হচ্ছে।

গ্রাম পুলিশ রুহুল আমিন বলেন, মো. কামাল প্রায় ২০ বছর যাবৎ এই এলাকায় ধান, তামাক, মরিচ, বাদাম, হলুদ সহ নানা ধরনের জিনিসপত্র কেনাবেচার ব্যবসা করে। ধারনা করা হচ্ছে গতরাতের কোন এক সময় যাওয়ার পথে সে ছিনতাই এর শিকার হয়। ছিনতাইকারীরা তাকে গাছের লাঠি দিয়ে প্রচন্ড মারধর করেছে।

তারা সারা শরীর ও মাথায় অসংখ্য জখমের চিহ্ন রয়েছে। তারা তাকে মৃত ভেবেই ফেলে গেছে। সকালে খবর পেয়ে আমরা উদ্ধার করে তাকে লামা হাসপাতালে ভর্তি করি। প্রচুর রক্তখনন হওয়ায় কামাল শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওয়ার্ড মেম্বার মো. আবু তৈয়ব বলেন, মানুষকে মানুষকে এমনভাবে মারতে পারে ! লোকটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। কারো সাথে তার কোন ঝগড়া-বিবাদ ছিলনা। অজ্ঞান থাকায় কত টাকা বা মালামাল ছিনতাই হয়েছে তা জানা যায়নি।

এই বিষয়ে লামা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত ডাক্তার সহকারী মেডিকেল অফিসার বিবি ফাতেমা বলেন, মাথায় অসংখ্য সেলাই করতে হয়েছে। তার সারা শরীরে অনেক আঘাত আছে। আমরা ভর্তি করে রেখেছি। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হবে।

এম এইচ বাবুল খাঁন, বান্দরবান