বৌদ্ধদের উপাসনালয়ের আদলে তৈরি এই ক্যাফে যে কারও নজর কাড়বে। ছবি: সংগৃহীত

সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান কাশ্মীরের লাদাখ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সেখানে পর্যটকের জন্য নতুন করে যোগ হয়েছে ‘আইস ক্যাফে’। লাদাখে পাহাড়ের উঁচুতে তৈরি এই ক্যাফেতে গরম নুডলস, স্যুপ ও চা-সহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার পাওয়া যাচ্ছে।

৭৮ ফুটের মতো উঁচু হয় এই স্তূপ। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪ হাজার ফুট উপরে লে জাতীয় সড়কের থেকে ৭৫ কিমি দূরে গেয়া মেরু গ্রামে এই ‘আইস ক্যাফে’ অবস্থিত। বৌদ্ধদের উপাসনালয়ের আদলে তৈরি এই ক্যাফে যে কারও নজর কাড়বে। বরফের করিডরকে ক্যাফে হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে।

পানির সমস্যা দূর করতে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক পুরস্কারজয়ী সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ফ্যাং গ্রামে কৃত্রিম হিমবাহ তৈরির প্রজেক্টের কাজ শুরু করেন। তবে তার আগে তিনি একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। মূলত কৃত্রিম হিমবাহ প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানানোর জন্যই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল।

লাদাখে পাহাড়ের উঁচুতে তৈরি এই ক্যাফেতে গরম নুডলস, স্যুপ ও চা-সহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার পাওয়া যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালের ২৩ মার্চ আন্তর্জাতিক পানিদিবসে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রতিযোগিতায় মোট পুরস্কারমূল্য ছিল ৫ লক্ষ টাকা। স্থানীয় ১২টি গ্রাম এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। গেয়া মেরু গ্রামের তরফ থেকে ৭৫ ফুটের একটি স্তূপ বানানো হয়। ৪৫ লক্ষ লিটার পানি দিয়ে এই স্তূপ বানানো হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় যুগ্ম দ্বিতীয় হয়ে তারা দেড় লক্ষ টাকা পুরস্কার পায়। এরপরই প্রতিযোগীরা কর্মশালায় কাজ করা শুরু করেন বরফের স্তূপ নিয়ে। ৭৫ মিমি পুরু ৩০০ মিটার পাইপ কেনার জন্য তারা ২৫ হাজার টাকা পান। মাটি থেকে ৬০ ফুট উপর থেকে পাইপে করে পানি ফেলা হত। এই পানি লাদাখের তাপমাত্রায় সারা রাতে জমে কঠিন বরফ হয়ে স্তূপের সৃষ্টি করতো। পরবর্তীতে তারা ডোম শেপের স্টিল ফ্রেম-সহ একটি স্তম্ভ তৈরি করেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরের শেষে পুরো স্টিলের কাঠামোটি বরফে ঢেকে যায়। ৭৮ ফুটের মতো উঁচু হয় এই স্তূপ।

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/এআরকে