‌লাইভ ফ্রম ঢাকা- চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত

‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ ঢাকাই সিনেমার নতুন জনরা। যাকে বলা যায় মরবিড এবং অস্তিত্ববাদী। আলব্যের কামুর ‘আউটসাইডার’ দোষে দুষ্ট। এরে গুনও বলা যাইতে পারে। একটা আচানক মিনিমালিজম এই সিনেমার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলেও গুরুতর দৃশ্যগুলোতে মেলোড্রামা করার বাসনা ছাড়তে পারেনি নির্মাতা থেকে শুরু করে অভিনেতারা। প্রধান তিন অভিনেতাই আমার চেনা জানা বন্ধু মানুষ। তানভিরের একটি সংলাপও বুঝি নাই। ডাবিং করে যা হয়ত ঠিক করা যেতো। মোস্তফা মনোয়ার সাইলেন্ট এক্টিং ভালো করছেন সংলাপ আর মেলোড্রামার বেলায় তেমন ভালো করেন নাই। এই ছবি দেখতে গিয়ে বেশ কিছু ছবির কথা মনে পড়ছে। যেটা ভালো না মন্দ বলা মুশকিল। বিক্ষিপ্ত সিনেমাটগ্রাফি সুন্দর। তবে সেগুলা জোড়া দিলে তেমন আবেগের সঞ্চার হয় না দর্শকের মনে। যেহেতু রিয়ালিস্ট সিনেমা ফলে গল্পে লজিকের লাগাম নির্মাতার হাতে থাকার কথা ছিল কিন্তু তা হয় নাই। গুরুতর কিছু বিষয় হাজির করা হয়েছে যা কিনা বাস্তবে আমরা হতে দেখি না। আর তাই বিশ্বাসও করতে পারি নাই কেনো রাশিয়া, কেনো মালয়েশিয়া। আরেকটা বিষয় সিনেমার প্রেক্ষাপট কোন সময়ের? এই বিষয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরি হয় দর্শকের মনে। আর্ট ডিরেকশনের দূর্বলতা ঢাকতেই হয়ত এই সিনেমা সাদাকালো। কিংবা এর টেলিফিল্ম গন্ধ দূর করা লক্ষেই এই তরিকা। ছবি শেষ হয় একটা বিদঘুটে এক্সপেরিমেন্ট এর ভেতর দিয়ে। যা হয়ত অস্বস্তি তৈরি করে কিন্তু শিল্পের দায় মেটায় না। একটা পরিপূর্ণ অনুভূতি দেয় না। কোনো শুরুর ইংগিতও দেয় না। এই ছবি বিদেশে পুরষ্কৃত হয়েছে ফলে একটা খচখচানি থেকে যায় আমরা কি এই বাংলাদেশেই থাকি? এটাই আমার শহর? আশাবাদ বলে কিছু অবশিষ্ট নেই আর তবে? এরকম খণ্ড বিখণ্ড আপাত পেসিমিজমের সাক্ষাৎ পাই লাইভ ফ্রম ঢাকায়। সাদ নতুন নির্মাতা। তাকে এবং তার দলকে শুভেচ্ছা। অনেক হাতড়ে বেড়ানো গল্পের ভীড়ে। জোড়াতালি গল্পের ভীড়ে একজন নতুন নির্মাতার নিজের অনুসন্ধান পর্যবেক্ষণটুকু এই সিনেমার বড় প্রাপ্তি। নতুন সিনেমার জয় হোক।

শিবু কুমার শীল। ছবি : শওকত ইমরান

লেখক: শিবু কুমার শীল। কবি, শিল্পী, লেখক