লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীর সম্পত্তি বেদখল করতে টিনের বাউন্ডারী ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এতে বাঁধা দিতে গিয়ে কম্পিউটার প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজুর রহমান আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ৪ জনকে বিবাদী করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মাহফুজ পৌর ২নং ওয়ার্ডস্থ বাঞ্চানগর গ্রামের নুর মিয়া ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা ও রাজধানী গুলশানের গ্রীণ রেইন আইটি সল্যুশান এর স্বত্তাধীকারী।

২৯ জুন সোমবার বিকেলে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোতাহের অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভাংচুরের ঘটনায় মোঃ আশ্রাফুর রহমান লিমন, হিরন, মোঃ মঞ্জুরুর রহমান সহ ৪জনের নামে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ মে দুপুরে লক্ষ্মীপুরে পৌরসভাধীন ২নং ওয়ার্ডস্থ বাঞ্চানগর গ্রামের নুর মিয়া ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন থেকে বাঞ্চানগর গ্রামের মৃত নুর রহমানের ছেলে আশ্রাফুর রহমান লিমন গংরা এলাকার বিভিন্ন মানুষের সম্পত্তি জোর পূর্বক বেদখল করে আসছে। লিমন গংদের সম্পত্তির পাশে প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান এর মালিকীয় ১৬.১৯ শতাংশ ভূমি রয়েছে।

বিগত কয়েকমাস পূর্ব থেকে বিবাদীরা উক্ত সম্পত্তি জবরদখলের পাঁয়তারা করে আসছে। এরই ধারবাহিকতায় গত ২২ মে দুপুরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহফুজুর রহমানের টিনের বাউন্ডারি ভাংচুর করতে থাকে। এসময় মাহফুজুর রহমান বাঁধা প্রদান করলে চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে হামলাকারীরা।

ভাংচুরের ঘটনায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের জমি বেদখল করে আসছে লিমন গংরা। তাদের কাছে পুরো এলাকাবাসী জিম্মি। পরের জমি দখল সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদের মধ্যে ওই গ্রামের ভূঁইয়া গাজী হাজি বাড়ির খাজা নাছির উল্যাহ ও নুর মিয়া ভূঁইয়া বাড়ির এডভোকেট মাহমুদুর রহমান মিশন গংদের জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে।

এডভোকেট মাহমুদুর রহমান মিশন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বাউন্ডারী ওয়াল ঘেঁষে প্রতিপক্ষের বেশ কিছু গাছ রয়েছে।

এর মধ্যে একটি গাছ মোটা হয়ে আমাদের ওয়াল ভেঙ্গে দিয়েছে। অথচ বার বার বলার পরও এনিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না তারা।

এদিকে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, ওই পরিবারের আইনজীবি হাসান আল মাহমুদের ইন্ধনে এসব কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে তার পরিবার এমনটাই গণমাধ্যমে অভিযোগ করা হয়।

সম্প্রতি ওই আইনজীবি স্থানীয় যুবকদের করোনা প্রাদুর্ভাব রোধে মাস্ক বিতরণে বাধা প্রদান করেন। এসময় মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকী দিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোঃ মঞ্জুরুর রহমান অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। কারা ভাংচুর করেছে আমার জানা নেই।

অপর অভিযুক্ত মোঃ আশ্রাফুর রহমান লিমনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও নাম্বার বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লক্ক্ষপুর সদর মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোতাহের বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • 178
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    178
    Shares