পশ্চিম সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন স্কুল ভবন অপসারণের নামে ভবনের ইটসহ যাবতীয় মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে।

অভিযোগ উঠেছে পরিত্যক্ত ভবনটি সরকারি বিধি-বিধান পরিপত্র অনুসরণ না করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সফিক উল্যাহ ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফারভিন ইয়াসমিনের যোগসাজশে আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে পুরাতন প্রায় ৩০-৪০ হাজার ইট, লোহার এঙ্গেল, কাঠ, টিন, গ্রিল, দরজা ও লোহার জানালা রয়েছে। সরেজমিনে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গত অর্থ বছরে পুরাতন টিনশেড স্কুল ভবন অপসারণ করে নতুন পাকা ভবনের কাজ শুরু হয়। যে স্থানে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে সেখানের পরিত্যক্ত ভবনটি স্কুল কর্তৃপক্ষ নামে মাত্র নিলাম দেয়। কিন্তু ওই পরিত্যক্ত ভবনটি সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ না করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সফিক উল্যাহ ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারভিন ইয়াসমিন মূল্যবান মালামাল লিষ্ট না করেই আত্মসাত করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিলাম লিস্টে ইটের পরিমাণ ১৭শ দেয়া হলেও ইট রয়েছে ১৫-২০ হাজার। ২০-৩০ ফুট লোহার এঙ্গেল রয়েছে ৩৫-৫০টি। যা স্থানীয় বেলায়েত হোসেন ড্রাইভার থেকে গোপনে সভাপতি সফিক উল্যাহ বিক্রি করেছেন। এছাড়া দরজা ৪টি, জানালা ১৫টি, টিন ১৮০ পিস, রড, গ্রিল, কেসি গেইট, পানিং ট্যাংকি, পানির টেপসহ কাঠের আসবাবপত্রের তালিকা নিলাম ছাড়াই ভাগভাটোয়ারা করে নেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সভাপতি সফিক উল্যাহ রাতের আঁধারে ভবনের ইট ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নিয়ে নিজের বাড়িতে কাজে লাগিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সফিক উল্যাহ কোন মতামত না দিয়ে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফারভিন ইয়াসমিন বলেন, সিজার লিস্টে যা মালামাল ছিল তার বেশি মালামাল গুলো কোথায় আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের বক্তব্য দিতে দিতে আমি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, স্কুলের সিজার লিস্টে সকল মালামাল অন্তর্ভূক্ত করা না হওয়ায় ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর নিলাম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে পূনরায় সিজার লিস্ট প্রেরণ করা হয়েছে। এর পর পরই নিলাম দেয়া হয়েছে। কিন্তু সিজার লিস্টে নতুন কোনো মালামালের তালিকা দেয়া হয় নাই। এ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, সরকারি মালামাল কেউ আত্মসাৎ করলে তাদেও আইনের আওতায় আসতে হবে। এছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন।

মোঃ সোহেল রানা/লক্ষ্মীপুর