লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের বকুল তলা (বেড়ী মাথা) থেকে আব্দুল করীম পাটোয়ারী বাড়ি হয়ে আব্দুর রহমান ভূইয়া বাড়ি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা।

সড়কটি নির্মাণের পর থেকে সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে কিছু অংশ কাচা মাটি, কিছু অংশ ইটের সলিং আবার পাকা অংশে অসংখ্য খানাখন্দে বর্ষণে পানি জমে প্রায় ডোবায় পরিণত হয়েছে।

এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চলাচলকারীরা। এই সড়ক সংস্কার ও কাচা অংশ পাকা করণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের আব্দুর রহমান ভূইয়া বাড়ির রাস্তাটি (বেড়ির মাথা-বকুল তলা হয়ে) পৌর শহরের গোহাটা প্রধান সড়কটির সাথে সংযুক্ত হয়েছে।

প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কমবেশী ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করেন। পাশে গরুবাজারের কারণে এ রাস্তা দিয়ে প্রতি হাটে শত শত গরু নিয়ে আসে ব্যবসায়ীরা।

চলাচল করে অসংখ্য মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, অটো রিকসা, সিএনজি, মালবাহী পিকআপসহ অন্যন্য ইঞ্জিন চালিত গাড়ি। খানাখন্দে ভরপুর রাস্তাটিতে হরহামেসাই ঘটছে দুর্ঘটনা।

বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাজী আব্দুর রহমান পাটোয়ারী বাড়ির মফিজুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সংস্কারে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ বা উপজেলা পরিষদ এমনকী ইউনিয়ন পরিষদের কোনো মাথাব্যাথা নেই।

অথচ এই রাস্তার পাশেই রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা, মসজিদ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

প্রতিদিন এই রাস্তার উপরই নির্ভর করেন হাজার হাজার পথচারী। রাস্তাটি খানা খন্দে ভরা তাই বয়স্ক ও রোগীদের হেটে আসতে হয়।

সাহাদ হোসেন ঝন্টু জানায়, আবদুর রহমান ভূইয়া রোড প্রায় ১ কিলো মিটার সলিং, আদা কিলো মিটার কাচা, এক কিলো মিটার পাকা তাও জরাজীর্ণ।

৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার সেলিম পাটওয়ারি সহ জনপ্রতিনিধিদের নজরেও কয়েকবার দেয়া হলেও তারা এ বিষয়ে কর্ণপাতও করেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন ,এ রাস্তাটি যেনো একটি মরণ ফাদ, সে যেন বিভীষিকা, রাস্তায় অসংখ্য গর্ত।

যে কোনো সময়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। রাছেল নামে একজন বলেন, অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু না হলে সচেতন মহল ও স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনে নামবে তারা।

লিয়াকত আলী নামে একজন বলেন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, মহিলা এমপি সেলিনা ইসলাম রাস্তাটি মেরামতে ও সোলার বাতি লাগিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েও রক্ষা করেননি।

রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে চররুহিতার ইউপি সদস্য সেলিম মেম্বার জানান, রাস্তাটির বরাদ্দ হয়েছে যে কোনো মুর্হুতে সংস্কার করা হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান কবির পাটোয়ারী বলেন, ৪ বছর পূর্বে রাস্তাটি আংশিক সংস্কার করেছি। এলাকাবাসীর অসচেতনতার অভাবে রাস্তাটি বেহাল।

শুধু আমার এলাকাতেই নয় সারাদেশেই অনুরুপ রাস্তা ঘাট আছে। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে রাস্তাটি সংস্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের সদস্য মাহবুবুল হক বলেন, এ রাস্তার বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপির কাছে একটি লিখিত পত্র দেওয়া হয়েছে । যে কোনো মুহুর্তে নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

-মোঃ সোহেল রানা