মজুরী না পাওয়া শ্রমিকরা।

রাস্তায় মাটি কাটা ১৮৬ দিনমজুরের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রিপন মিয়া নামের একজন সরকারি চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে। তিনি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইটার (সিএইচসিপি) এর দায়িত্বরত।

গত ৮ মাস আগে যাদুরচর পূর্বপাড়া এলাকায় ওই দিনমজুরেরা রাস্তায় মাটি কাটেন। ঈদের আগে তাদের সমুদয় টাকা বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও রিপন মিয়া ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে নিজেই আত্মসাৎ করেন। ওই এলাকার আব্দুল গফুর জানান, ৮ মাস আগে তৎকালীন এমপি রুহুল আমিন আমাদের গ্রাম পরিদর্শনে আসেন। রাস্তার বেহাল দশা দেখে প্রকল্প দেয়ার আশ্বাস দেন।

এ আশ্বাসে গ্রামের দিনমজুরেরা আমার বাড়ি হতে দক্ষিণে কাদেরের বাড়ি পর্যন্ত দু’টি রাস্তায় প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে মেরামত করেন। টিআর প্রকল্পের একটি বরাদ্দও ধরানো হয় সেখানে। এ প্রকল্পের সভাপতি করার কথা ছিল দিনমজুরদের মধ্য থেকে। কিন্তু অজানা কারণে স্থানীয় প্রভাবশালী রিপন মিয়াকে এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়।

রিপন মিয়া এ সুযোগে ৪ মাস পর নামমাত্র কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ওই রাস্তার শেষ মাথায় সামান্য মাটি ফেলে সমুদয় টাকা তুলে আত্মসাত করেন। মাটি কাটা শ্রমিক সমেজ উদ্দিন, মুকুল মিয়া, শহিদুল ইসলাম, রিয়াজ উদ্দিন ও আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, সাবেক এমপি রুহুল আমিনের কথায় এলাকার দুটি রাস্তায় মাটি কেটে মেরামত করি। এমপি টিআর প্রকল্পের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দও দেন। কিন্তু রিপন মিয়া নামের একজন সরকারী চাকুরীজীকে এ প্রকল্পের সভাপতি করায় তিনি প্রকল্পের সব টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

গত ৮মাস থেকে শ্রমের মুজুরীর টাকা না পাওয়ায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এ বিষয়ে ওই শ্রমিকরা রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে রিপন মিয়া বলেন, ওই কাজে আমার প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বিল পেয়েছি ১ লাখ ৭০ হাজার। তাই সব টাকা আমি নিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্বীপঙ্কর রায় জানান, এ ঘটনায় আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

মাসুদ পারভেজ রুবেল/রৌমারী