সরিষা

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় এবার চলতি রবি মৌসমে রেকর্ড পরিমান সরিষার আবাদ হয়েছে।

এ মৌসমে সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় আবাদে মনোযোগ দিয়েছে এলাকার কৃষকরা।

এছাড়া আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষিরা ভাল ফলন পাওয়ার আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, এবারে চলতি মৌসমে উপজেলায় ৫ হাজার ৪৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন ছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জিত জমির পরিমান ৪ হাজার ২শত ৫০ হেক্টর। টরি-৭ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বারি-৯, বারি-১৪, ১৫ জাতের সরিষা রয়েছে।

মাঠে মাঠে শুধুই যেনো হলুদের সমারোহ। গুন গুন করছে মৌমাছি। সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত মৌমাছির ঝাঁক। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের কাউনিয়ার চর এলাকার কৃষক আশরাফুল বলেন, কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা জমিতে আগাম জাতের সরিষার আবাদ করছেন।

তিনি বলেন, ধানের দামের দরপতনের কারণেই প্রতি বছরই তাদের লোকশান গুনতে হচ্ছে। তাই বিকল্প ফসল হিসেবে অন্য ফসলের পাশাপাশি তারা সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

একই ইউনিয়নের সাইজউদ্দিন বলেন, চলতি মৌসমে দুই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। সরিষা তুলে নিয়ে ওই জমিতে ইরি-বোরো ধান লাগাবেন। সরিষার ফসল থেকে উপার্জিত আয় বোরো ধান উৎপাদনে সহায়ক হবে বলে দাবি করেন তিনি।

যাদুরচর ইউনিয়নের সাখাওয়াত হোসেন ছুক্কু বলেন, আগাম জাতের সরিষার অর্জিত অর্থ দিয়ে বোরো ধানের খরচ চালানো সহজ হবে।

এছাড়াও সরিষা চাষে সার কম প্রয়োগ করতে হয়। সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানি লাগে না। একেবারই খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়। বর্তমান বাজারে দামও ভাল।

দাঁতভাঙ্গা উপ-কৃষি কর্মকর্তা মো. আজম বলেন, সরিষার রোগ বালাই দমনে মাঠ পর্যায়ে চাষিদের রোগ বালাই দমনে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমান জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা সরিষা চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা আয় করতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।

-মাসুদ পারভেজ রুবেল