পাগলী দুই বোনের আকুতি মেম্বার, চেয়ারম্যান ও এলাকার সচেতন মহলসহ কেউ শোনে না তাদের কথা।

দিনের পর দিন তাদের কাছে গিয়েও কোন সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে জীবন নির্বাহ করতে বেচে নেয় ভিক্ষাবৃত্তি।

পাগলী দুই বোন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শৌলমারী হাফাতিকান্দা উত্তর গ্রামের বাসিন্দা।

তাদের মধ্যে আহেমা খাতুন (৫৪) ও ছোট বোন আসরাফন নেছা (৫৩)।

পাগলী দুই বোনের ভিটেমাটি তো দুরের কথা থাকার ঘরটুকুও নেই। থাকেন এক ভাইয়ের ছেলে ভাতিজা মাইদুল ইসলাম ওরফে মহিম আলীর ঘরে। যে কোন সময়ে ভাতিজা তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার আশঙ্কা করছেন ওই বোন দুইজনকে।

এখন পর্যন্ত তারা জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের ঘর, স্বামী পরিত্যাক্ত ভাতা, বিধবাভাতা, ফেয়ারকার্ড ও ভিজিএফের নামসহ সরকারি কোন সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ করেন আহেমা ও তার ছোট বোন আসরাফন।

৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

গত ২৫ বছর আগে আহেমা খাতুনের বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের ডাংগুয়াপাড়া গ্রামের নইমউদ্দিনের সাথে। ভাগ্যের কি পরিহাস, বিয়ের ২বছর পরেই তার স্বামী মারা যায়। তাদের ঘরে কোন সন্তানাদি না থাকায় স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। অপর দিকে বড় বোনের বিয়ের কিছুদিন পরে ছোট বোন আসরাফন নেছার বিয়ে হয় কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায়।

বাকপ্রতিবন্ধি হওয়ায় তার স্বামীয় তাকে বাড়ি থেকে তারিয়ে দেয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই অকালে মৃত্যু হয় তার স্বামীর। একই অবস্থায় সেও বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেই থেকে দুইবোন একসাথে থাকেন। তার বাবা-মা কেউ নেই। ভাইয়েরা স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্যত্রে বসবাস করছেন। ভাতিজা মহিম আলী ৩শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসবাস করছেন। মানবিক কারনে তার ভাতিজা অসহায় পাগলী দুই ফুফুকে ছোট একটি কুটিরে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।

এব্যাপারে ২নং শৌলমারী ইউপি সদস্য শাফী আহমেদ বলেন, এবিষয় আমি কিছু জানি না।

ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ হাবিবুর রহমান হাবিল জানান, মহিলা ও পুরুষ মিলে তিনজন ইউপি সদস্য থাকা সত্বেও এত বড় তথ্য রয়েছে এটা দুঃখজনক। পাগলী দুইবোনের বিষয় আমাকে কোন কিছু জানায়নি ইউপি সদস্যরা। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে তদন্ত করে আমার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

রৌমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্ল্যাহ্ বলেন , অসহায় দুই বোনের কথা এই মাত্র আপনাদের কাছে শুনলাম বিষয়টা খুব দু:খ জনক তবে এর জন্য দায়ী ওই এলাকার ইউপি সদস্যরা। তিনি আরও বলেন এই মূহুর্ত আমার কাছে কোনো প্রকার বরাদ্দ নাই ।

পরবর্তিতে আমার উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

মাসুদ পারভেজ রুবেল/কুড়িগ্রাম