তিন সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে। ছবি : সংগৃহীত

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ সাড়া দান পরিকল্পনা ২০১৯ বিষয়ে অক্সফাম, সেভ দ্যা চিলড্রেন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিশ্ব সম্প্রদায়ের নতুন সহায়তা পরিকল্পনায় শরনার্থী শিশু ও যুবকদের শিক্ষার অগ্রাধিকার বিষয়টি বিবেচনা করছে রোহিঙ্গারা। এই সময়ের মধ্যে শরনার্থীদের উপার্জন সৃষ্টির সুযোগ প্রয়োজন যা তাদের সাহায্য করবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে, পরিবারের আরও ভালো ভরনপোষনে এবং মানবিক সংস্থাগুলোর ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ।

রোহিঙ্গা শরনার্থীদের শিবিরের পাশে বসবাসরত স্থানীয় জনগোষ্ঠীও নতুন এই সাড়া দান পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে সীমান্ত খুলে দেয়ার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ সরকার আতিথিয়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আবার স্থানীয়রাও নিজ এলাকায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে বিগত ১৮ মাসে ১০ লাখ অতিরিক্ত মানুষকে ভরনপোষনে সরকার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিশাল চাপ তৈরী করেছে। নজিরবিহীন এই শরনার্থী স্রোত বাংলাদেশের অন্যতম দারিদ্রপীড়িত জেলা কক্সবাজারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর যে প্রভাব ফেলছে তা স্থানীয় অনেক পরিবারকে আরও দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শরনার্থীদের ত্রান সহায়তা প্রাপ্তি ও আন্তর্জাতিক আইনে প্রাপ্য সুরক্ষা প্রদানে স্থানীয়রা যেখানে বাধার সৃষ্টি করে সেখানে রোহিঙ্গা প্রশ্নে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অদ্যাবধি উদারতা সত্যিই প্রশংসনীয় ।

রোহিঙ্গা শরনার্থীর জন্য দাতা রাষ্ট্রগুলোর অদ্যাবধি ত্রাণ সহায়তা ও সমবেদনা প্রকাশের ভুয়সী প্রশংসা করছে অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন । ৯ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরনার্থী এবং ৩ লাখ ৩৬ হাজার স্থানীয় জনগোষ্ঠী অর্থাৎ মোট ১২ লক্ষাধিক মানুষের সহায়তায় ঘোষিত নতুন সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের যে তহবিল জোগাড়ের আবেদন জানানো হয়েছে সেখানে দাতা দেশগুলোকে সাড়া প্রদানের জন্য সংস্থা তিনটি আহবান জানাচ্ছি ।

খাদ্য, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের পাশাপাশি এই জনগোষ্ঠী যাতে যথাযথ নিরাপত্তা ও সম্মানের সাথে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার নিশ্চিত করতেও দাতাগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমরা আবেদন জানাচ্ছি । আমরা বলতে চাই ,শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিশু ও যুবকদের দক্ষ করে তুলতে পারলে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরে তারা নিজেদেরউজ্জল ভবিষ্যতে সৃষ্টি করতে পারবে । নজিরবিহীন ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের ২য় বছরের ঠিক মধ্যবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নতুন এই যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার ঘোষণা এলো । অক্সফাম, সেভ দ্যা চিলড্রেন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সুরক্ষার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার জন্য বাংলাদেশকে সরকাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে । আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানাচ্ছি , যেন তারা বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা অব্যাহত রাখে। সেই সহায়তা পরিকল্পনায় যেন শরনার্থী শিশু ও কিশোরদের শিক্ষার বিষয়টি মুল গুরুত্ব দেয়া হয় , এবং সেই সব কার্য়ক্রমকে উৎসাহিত করা হয় যার মাধ্যমে তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে এবং তাদের অভিভাবকেদের দুর্দশা কাটিয়ে ওঠে।