রোহিঙ্গা ক্যাম্প

দিন দিন কক্সবাজার জেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। আর এতে বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পে গতরাতে রোহিঙ্গাদের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে অন্তত একজন নিহত হওয়ার পর এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

তবে স্থানীয় পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গা শিবিরে শনিবার রাতের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে দুই দল ‘ডাকাত’ এর মধ্যে। বলা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের এসব গ্যাংগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কক্সবাজারের অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা র‍্যাব ১৫’র অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন এসবের কেন্দ্রে রয়েছে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবার ব্যবসা ও তার টাকা ভাগাভাগি। ।

তিনি বলেছেন, “এখানে কিছু কিছু ডাকাত গ্রুপ আছে যারা ইয়াবার ব্যবসার সাথে জড়িত। রোহিঙ্গারা নিজেরা নিজেরা যখন মারামারি করে তখন এই ইয়াবার ব্যবসার টাকা-পয়সা ভাগাভাগি নিয়েই বেশিরভাগ মারামারি করে এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে।”

সবমিলিয়ে কক্সবাজারে ৩৩ টি রোহিঙ্গা শিবির রয়েছে যেখানে এগারো লাখের বেশি রোহিঙ্গার বাস। বিশ্বের সবচাইতে বড় শরণার্থী শিবির এখন উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প।

র‍্যাবের কর্মকর্তা উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলছেন, এর মধ্যে নয়াপাড়া ক্যাম্পে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী কার্যক্রম হচ্ছে।

রোহিঙ্গারা ইয়াবা চোরাচালান ছাড়াও মানব পাচার ও ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তার কাজে জড়িত রয়েছে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী। একসঙ্গে এতগুলো বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে রোহিঙ্গারা এত অপরাধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় এই উদ্বেগ বাড়ছে।

কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিবিসিকে বলেন, “সব জায়গায় পাহারা শক্ত নয়। এখানে যেসব সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে তারা পাহাড়ে থাকে। পাহাড় থেকে নেমে এসে এই কাজগুলো করে। তারা ক্যাম্পে অবস্থান করে না।”

তিনি আরও বলছেন, ক্যাম্পগুলোর চারদিকে খোলা, ফলে ইচ্ছে করলেই যে কেউ কোনো কোনো দিক দিয়ে বের হতে ও ঢুকতে পারে। “এই সুযোগটা অনেক সময় ওরা নেয়।”