ধান কাটছেন কৃষকরা। ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুরে রোপা আমনের বাম্পার ফলনে উৎসবের আমেজ উত্তর সিলেট জুড়ে। এখানকার মাঠের পর মাঠ পেরিয়েও শুধু সোনালী ফসলে হলদে হাসি।

বিশেষ করে গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর উপজেলার সবকটি হাওর ও আশপাশের ফসলী জমিগুলোতে এবার রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুম শুরুর আগে একাধিকবার পাহাড়ি ঢল, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়েও এবারের রোপা আমনের ফলন কৃষকদের সকল কষ্টকে ভুলিয়ে দিয়েছে।

এখন ঘরে ঘরে ব্যস্ত কৃষাণীর মুখেও আনন্দের বান। মাঠ ভরা ফসলের বাম্পার ফলনে তাদের আত্মতৃপ্তির গল্প। সোনালী ফসলে ভরে উঠছে কৃষকের গোলা। ঘরে ঘরে ব্যস্ত কৃষাণীরা ধান সংগ্রহে। দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ থেকে মাঠ জুড়ে জারি-বাউল আর ভক্তিমুলক গানের সুর। গানের সুরে সুরে চলছে ধান কাটা আর মাড়াইয়ের কাজ।

এ বছর গোয়াইনঘাট উপজেলায় রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৫ হাজার ৭শত হেক্টর জমি। আর এসব জমি থেকে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আর জৈন্তাপুর উপজেলায় হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১০ হাজার ৮শত ৪৫ হেক্টর জমি। কিন্তু চাষাবাদ ছাড়িয়ে যায় ১১ হাজার ৪শত ১০ হেক্টর জমি। আর এসব জমি থেকে ৪২ হাজার ৮শত ৮৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে বলে জানায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

গোয়াইনঘাটের লেঙ্গুড়া, ডৌবাড়ি, রুস্তমপুর, আলীরগাঁও, পূর্ব জাফলং,পশ্চিম জাফলং, তোয়াকুল, নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন ও জৈন্তাপুরের দরবস্ত, জৈন্তাপুর, চারিকাটা, ফতেহপুরের বিস্তৃত ফসলের মাঠ জুড়ে ধান আর ধান।

আনন্দ, উল্লাসের সাথে চলছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। বেশিরভাগ এলাকায় চাষিদের পাশাপাশি শ্রমিক লাগিয়েও চলছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কার্যক্রম। কোথাও কোথাও সরকারের ভর্তুকির সুবিধায় পাওয়া কম্বাইন্ড হারভেষ্টার মেশিনেও চলছে ধান কাটা, মাড়াই ও ধান বস্তাবন্দি করার কাজ।

কোথাও কোথাও বাড়ি থেকে পাঠানো বিন্ন ভাত আর ঝাল মাংসের ঝুল দিয়ে ক্ষেতের আলে বসেই কেউ কেউ দুপুরের আহার সারছেন। ধান কাটার সময় পালা করে বাউল, জারি, ভক্তিমুলক বিভিন্ন ধরণের গান গাইতেও দেখা যায় কৃষকদের।

এব্যাপারে কথা হলে জৈন্তাপুর উপজেলায় কর্মরত ও গোয়াইনঘাটের (ভারপ্রাপ্ত) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসাইন জানান, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে সর্বকালের রেকর্ড পরিমাণ রোপা আমন চাষ হয়েছে। এবার অত্রাঞ্চলে ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে স্থানীয় উপসি জাতের রোপা আমন চাষ হয়েছে। বন্যা ও পরিবেশ সহনীয় জাতের উপসি রোপা আমন চাষে উৎসাহিত হওয়ায় বাম্পার ফলনও হয়েছে। অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে এবারই হয়তো সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদনের নজির গড়ছে এ দুই উপজেলায়। এবার ৭৭ থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এ দুই উপজেলা থেকে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরের কৃষি ব্যবস্থাপনায়। কৃষি বান্ধব সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তানুসারে এবার গোয়াইনঘাট থেকে কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে এবার গোয়াইনঘাট থেকে সরকার ২৬ টাকা দরে সরকার ১৫শত ৪৩ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করবে।