সাধারণত ইফতার করার দুই ঘন্টা পর রোজাদার ব্যক্তি স্বাচ্ছন্দে রক্ত দিতে পারবেন। ছবি : সংগৃহীত

রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয় এবং রক্তদানের ২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকার জন্ম হয়ে ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। বছরে ৩ বার রক্তদান আপনার শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলার সাথে সাথে নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়িয়ে দেয়। উল্লেখ্য রক্তদান করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেহে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়।

তবে, সারাদিন না খেয়ে থাকার পর রক্তদান করলে সমস্যা হতে পারে। কারণ সারাদিন না খেয়ে থাকার জন্য শরীর দুর্বল লাগবে।  মাথা ঘোরা, শরীরে শক্তি না থাকা এইসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এগুলো সাময়িক। ইফতার করার দুই ঘন্টা পর রক্ত দিতে পারবেন। এতে কোন সমস্যা হবে না। খাবার খাওয়ার পর শরীরের দূর্বলতা কেটে যায়। তাই আদর্শ সময় হলো ইফতারের দেড় থেকে দুই ঘন্টা পর রক্ত দেওয়া।

‘রক্তদান করলে নাকি রোজা ভেঙ্গে যাবে’ -এমন কথা আমাদের মধ্যে প্রচলিত আছে। রেজাদারের শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়া আর রোগিকে বাঁচাতে রক্তদান করা এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। তবে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রক্তদানে কোন বাধা নেই।

যেখানে একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর সাথে সম্পর্কিত রয়েছে রক্তদান, সেখানে ধর্মীয় কোন বাধা থাকারও কথা না। অনেকেই মনে করেন রোজা রেখে রক্তদান করলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়! আসলে এতে রোজার কোন ক্ষতি হয় না। রোজার সময় রক্তদান সম্পর্কে বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ঈমাম সাহেব ‘হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী’ বলেছেন, “পবিত্র কোরআন শরিফে বলা হয়েছে ‘যে ব্যাক্তি একজন মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানব জাতির জীবন রক্ষা করল।” (সূরা মায়েদাঃ ৩২), তাহলে এই আয়াত থেকে বোঝা যাচ্ছে যে আপনি যদি আপনার রক্তদানের মাধ্যমে কোন মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়তা করেন, তাহলে যেন পুরো মানব সমাজকে রক্ষা করলেন।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/এমএইচএস