রমযানে সুস্থ থাকতে ডায়বেটিক রোগীদের সচেতন থাকা উচিৎ। ছবি-সংগৃহীত

রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি; কোনো মুসলমানকে বলা কঠিন যে he or she should not fast. বলা উচিত রোজা রাখতে কোনো নিষেধ নেই তবে কারও কারও জন্য ঝুঁকি থাকতে পারে।

যে ডায়াবেটিক রোগীর ঝুঁকি বেশি

১. এডভান্সড কিডনি রোগ যাদের আছে। তাদের ডিহাইড্রেশন হয়, এটি বিপজ্জনক। যাদের ডায়ালাইসিস চলছে।

২. অনেক বেশি সুগার (কিটোএসিডসিস, হাইপার অসমলার স্টেট এর ভয় থাকলে বা এসবের কারণে সম্প্রতি চিকিৎসা নিতে হয়েছিল এমন হলে) : রোজার সময় ওষুধ কমানো, খাওয়া বাড়ানোর জন্য এগুলো হতে পারে।

৩. হাইপোগ্লাইসেমিয়ার শঙ্কা যাদের বেশি (রোজার আগে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্য ভর্তি হতে হয়েছিল; বার বার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়েছিল, অসুখের কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার আশঙ্কা বেশি) অথবা ডায়াবেটিসের কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার আলামত বুঝতে অপারগ।

৪. ভীষণ অসুস্থ রোগী।

৫. গর্ভবতী।

৬. টাইপ-১ বা অন্য ডায়াবেটিস। তাদের বার বার ইনসুলিন নিলে বা অন্য ওষুধ নিলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যে ডায়াবেটিক রোগীর বেশি ঝুঁকি

১. হার্টের রোগী যারা আট-দশটা ওষুধ খায় তাদের জন্য কঠিন।

২. রক্তে সুগার বেশি (১৫০-৩০০ মি. গ্রাম বা ১৬ মিমোলের কাছাকাছি)

৩. একাকী থাকে এবং ইনসুলিন বা এমন ওষুধ নিতে হয় যেটার জন্য ঝুঁকি বেশি।

৪. বয়স্ক অসুস্থ ব্যক্তি।

৫. ডায়াবেটিসের সঙ্গে অন্য মারাত্মক ব্যাধি থাকলে।

৬. সতর্ক না হলে স্তনদাতা মায়ের জন্য ও রোজা বিপজ্জনক।

মাঝারি ঝুঁকি

১. ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করতে ইনসুলিন বা সালফোনিলুরিয়া জাতীয় ওষুধ লাগে।

২. ঝুঁকি কম

৩. শুধু জীবন যাত্রা পরিবর্তনে সুগার নিয়ন্ত্রণে আছে বা মেটফরমিন, গ্লিপটিন, গ্লিটাজন, একারবোজে যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রোজাদারের কী কী সমস্যা হতে পারে

ডিহাইড্রেশন : পানি কম খাওয়া, অপরিমিত কায়িক শ্রম, ওষুধ ইত্যাদি কারণে পানি স্বল্পতা হওয়ার শঙ্কা থাকলেও বাস্তবে তা কম হতে দেখা যায়। রাতের বেলা পানি খেয়ে পুষিয়ে খেতে হবে। ফজরের আজানের আগ পর্যন্ত খেয়ে যেতে হবে। দিনের প্রথম ভাগে কাজ বেশি করা যেতে পারে। রোজার শুরুতে সমস্যা হলেও পরের দিকে এডজাস্টেড হয়ে যায়।

হাইপোগ্লাইসেমিয়া (হাইপো) : সুগার অনেক কমে গেলে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। স্বাভাবিক মানুষের গ্লুকোজ ২.৫ মিমোল বা তার কম হলে হয়। যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান তাদের ৩.৫ হলেই হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়। ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের পরিমাণ দেখার চেয়ে উপসর্গ দিয়েই হাইপো বিবেচনা করতে হয়।

ভীতি থাকলেও পরিসংখ্যান আমাদের এ ধারণাকে সমর্থন করে না। রোজা রাখলেই হাইপো হবে এ ধারণা ঠিক না। ডায়াবেটিসের ওষুধ না খেলে ডায়াবেটিস রোগীর হাইপো হয় না। সব ওষুধে হাইপো হওয়ার আশঙ্কা সমান নয়। ১২-১৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকলেও কারও হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয় না। যারা সালফোনিলুরিয়া ট্যাবলেট খান ও ইনসুলিন নেন তাদের হাইপো হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। তাই ওষুধ ও ডোজ অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হয়। সন্দেহ হলে আঙ্গুল থেকে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। নিশ্চিত হলে মিষ্টি খেয়ে নিতে হবে। রাতের শেষ ওয়াক্তে সেহেরি খেতে হবে। ইফতারিতে ভূরি ভোজ আর সেহেরিতে লাইট খাবার বা নো খাবারের অভ্যাস বাদ দিতে হবে। দিনের বেলায় যথাসম্ভব কায়িক শ্রম কমাতে হবে। তারাবিতে কায়িক শ্রম ধরেই দিনের ব্যায়ামের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

কিটোএসিডোসিস, হাইপারঅসমলার স্টেট/ হাইপোগ্লাইসেমিয়া

ডিহাইড্রেশন একটা বড় ফ্যাক্টর বিশেষ করে বয়স্ক লোকদের। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ভয়ে ওষুধ অনেকেই বাদ দেন বা অনেকে অযৌক্তিকভাবে কমিয়ে দেন। পরিশ্রম কম করে বিধায় সুগার বেশি হয়ে যায়। গ্লুকোজ সমৃদ্ধ খাবার এবং পার্টি ভোজন কম করা ভালো। মাত্রাতিরিক্ত সুগার (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) কমাতে ফাইন সুগার কম খেতে হবে। কমপ্লেক্স শর্করা (রুটি, ভাত)ও শাক-সবজি, ডাল, ফল এবং আঁশ সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে।

খাদ্যনালির সমস্যা

ইফতারি ও সেহেরিতে অনভ্যস্ত খাবার ও রাস্তাঘাটের খাবার এটার কারণ। সারাদিন খালি থাকা খাদ্যনালি সব কিছু সহ্য নাও করতে পারে! কিছু কিছু ওষুধও বাদ দেয়া লাগতে পারে- বমি, পাতলা পায়খানা হলে। সোডিয়াম পটাশিয়াম কমে যাওয়ার ও প্রস্রাব কমে যাওয়ার রিস্ক থাকে।

প্রস্রাবে ইনফেকশন

ডিহাইড্রেশন বিশেষ করে প্রস্রাবের নালি শুষ্ক হয়ে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের ইনফেকশন বাড়ায়।

রোজাদারের ব্যায়াম

ব্যায়াম নিষেধ নয় তবে কঠিন এবং ঝুঁকি বাড়ায়। ব্যায়াম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যাবশ্যক। রোজার সময় তারাবির নামাজের ঘণ্টা খানেকের শ্রম ব্যায়াম হিসেবে নিয়েই ব্যায়ামের প্লান করতে হবে। ইফতারের এক ঘণ্টা পরে কায়িক শ্রম করা ভালো। দিনের শেষ দিকে কায়িক শ্রম বাদ দিতে পারলে উত্তম। তারাবিতে যাওয়া আসার রাস্তাটা ঘুরে গিয়ে লম্বা করা যেতে পারে। যারা ট্রেড মিলে অভ্যস্ত সুবিধামতো রাতের বেলা কোনো সময় ১৫-৩০ মিনিট ট্রেড মিল করে নিতে পারেন। তবে প্রতিদিন একই সময় করতে পারলে ভালো। ১০-১৫ মিনিট করে শুরু করে বাড়ানো যায়, এক্সজস্ট না হয়ে যায় সেটা বিবেচনায় রাখতে হবে।

রোজার দিনে রক্ত পরীক্ষা

রোজার তিনমাস আগে থেকেই গ্লুকোজ কন্ট্রোল থাকলে একমাসে কিছু হওয়ার কথা নয়, অযৌক্তিক কিছু না করলে। বাংলাদেশ, মিসর, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের আলেমদের মতানুযায়ী আঙ্গুল থেকে রক্ত পরীক্ষা করলে রোজা ভাঙে না। যার গ্লুকোজ কন্ট্রোলে নেই সেহেরির দু’ঘণ্টা পরে, ইফতারির আগে, ইফতারির দু-ঘণ্টা পরে এক-একাধিকবার রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। নাস্তার আগে ৬ মিমো ও খাওয়ার পরে ৮-১০ মিমো টারগেট করতে হবে। রক্তে গ্লুকোজ ৪ মিমোলের কম হলে বা যে কোনো সময় ৩০০ মিলিগ্রাম (১৬.৭ মিমো) এর বেশি হলে রোজা ভেঙে ফেলা ভালো। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার উপসর্গ হলে সুগার পরীক্ষা করে কনফার্ম করতে হবে, নিয়মমাফিক রোজা ভাঙতে হবে।

ওষুধ নিয়মিতকরণ

সহজতর হল সকালের ওষুধটা সন্ধ্যায় অর্থাৎ ইফতারের পানি পান করে ওষুধ নিলে হয়। বাকিটা রাতে ভাগ করে খেয়ে নিলেই হল।

ইনসুলিন

যারা দিনে দুই ডোজ নেন তারা সকালেরটা সন্ধ্যায় নেবেন। মনে রাখা সহজ হল আরবি ইফতার শব্দের অর্থ নাস্তা। আমরা রোজার দিনে নাস্তা করি সন্ধ্যায় তাই অন্য দিনের নাস্তার ডোজটা ইফতারে (নাস্তায়) নিলেই হল। দ্বিতীয় ডোজটা শেষরাতে নিলেই হল। (প্রেসক্রিপশনের প্রথম ওষুধ প্রথম রাতে, শেষের ওষুধ শেষরাতে)। তবে সতর্কতা হল ইফতারের পানি পান করে ওষুধ খেতে/ইনজেকশন নিতে হবে; ইনজেকশন নিয়ে আগে খেতে হবে, খাওয়ার পর নামাজ; নামাজ পড়ে এসে খাবার নয় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া ঠেকানোর জন্য)। রোজার প্রথম দিকে দ্বিতীয় ডোজটা অর্ধেক নেয়া যেতে পারে।

৪-৫ দিন পরে সেহেরির পর (সকাল ৮-১০টা) সুগার পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি রক্তে সুগার ১০ এর বেশি থাকে শেষ রাতের ইনসুলিন বাড়াতে হবে। বাস্তবতা হল যেসব রোগীর ইনসুলিন ছাড়া কন্ট্রোল হয় না তাদের ডোজ কমানো দরকার পড়ে না। ইদানীং একবেলা দিলে হয় এমন ইনসুলিন যেমন বেজাল সারাদিনে একবার দিলেই হয় (ডেগ্লুডেগ এ রকম ইনসুলিন)। গ্লারজিন, লিভেমির ও অনেকটা এরকম। লিরাগ্লুটাইড ইনসুলিনের ভেঙে যাওয়া কমায় তাই অনেকটা এমন।

এসব ওষুধ শেষ রাতে দিয়ে অন্য বেলায় সাসটেইন/মডিফাইড (এসআর, এমআর, এক্সআর) ট্যাবলেট দেয়া যায়। তবে লাগলে প্রতি খাওয়ার আগে রাপিড এ্যাক্টিং ইনসুলিন দিতে হবে। মিক্স ইনসুলিন বা কোফর মুলেশন/রাপিড এ্যাক্টিং কম্বিনেশন দিলে ডোজ ঠিক করতে বেশি করে পরীক্ষা দরকার হয়। এ ক্ষেত্রে প্রথম রাতে মিক্স ইনসুলিন দিলে রাতে হাইপো হয় না বা কম হয় এমন ট্যাবলেট/লং অ্যাক্টিং ইনসুলিন দেয়া যেতে পারে।

ট্যাবলেট

সালফোনিলুরিয়া : সালফোনিলুরিয়া ২৪ ঘণ্টা কাজ করে তাই পারতপক্ষে সন্ধ্যায় এক ডোজে নেয়া ভালো। সালফোনিলুরিয়া শরীরে গ্লুকোজ কম থাকলে আরও কমায় অর্থাৎ খাই আর না খাই গ্লুকোজ কমাবেই তাই হাইপো হওয়ার আশঙ্কা বেশি। সন্ধ্যাবেলায় ডোজ কমিয়ে সাস্টেইনড রিলিজ (এসআর) মডিফাইড রিলিজ (এমআর) ট্যাবলেটগুলো পছন্দনীয়। সন্ধ্যাবেলায় মেটিগ্লিনাইড ও রিপাগ্লিনাইডের মতো শর্ট এ্যাক্টিং সালফোনিলুরিয়া দেয়া যেতে পারে।

মেটফরমিন : ইনসুলিন সেন্সিটাইজার। গ্লুকোজ বেশি না থাকলে গ্লুকোজ কমায় না তাই হাইপো হওয়ার কথা না। দু’বেলা তিনবেলা এবং ফুলডোজে নেয়া যেতে পারে। মেটফরমিন ডায়রিয়া এবং বমির কারণ হতে পারে। সম্ভব হলে রোজার দিনে সর্বনিু ডোজ দিতে হবে।

ইনক্রেটিন (ভিলডাগ্লিপট্ন, সিটাগ্লিপটিন, সেক্সাগ্লিপটিন, লিরাগ্লুটাইড) : খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে ইনসুলিন নিঃসরণ হয়। এরা সেই ইনসুলিন ভাঙতে দেয় না। রোজার দিনে সন্ধ্যাবেলার ডোজ নিরাপদ। তবে বমি বা ডায়ারিয়ার ঝুঁকি থাকে। দরকারে ডোজ কমাতে হবে। লিরাগ্লুটাইড সহ্য হয়ে গেলে সন্ধ্যাবেলায় একমাত্র ওষুধ এক ডোজ নিলেও হতে পারে।

মেটফরমিন ও ইনক্রেটিন বা তাদের কম্বিনেশন গ্রুপ সহ্য না হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মডিফাইড রিলিজ সালফুনিলুরিয়া দিয়ে চিকিৎসা করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ডোজ কম দিতে হয় বমি, ডায়রিয়া বন্ধ করার জন্য। ইনসুলিনের পরিবর্তে একমাস বড়ি দিয়ে চলতে পারে এ ধারণা ঠিক নয়।

এসজিএলটি ২ ইনহিবিটর : নতুন ওষুধ অভিজ্ঞতাও কম। এরা এমনিতই ডিহাইড্রেশন করে, কিটোএসিডসিস বাড়ায় বিধায় ব্যবহার না করা ভালো। তবে ইফতারে না নিয়ে মধ্য রাতে যখন শরীরে যথেষ্ট পানি থাকে তখন নেয়া নিরাপদ।

রোজার উপকারিতা : ব্যক্তি-সংযম, সহমর্মিতার অভ্যাস বাড়ায়। চা কফি ধূমপান ইত্যাদি অনাবশ্যকীয় খাবার ও অভ্যাস/বদাভ্যাস ত্যাগ করা শেখায়।

গোষ্ঠী : ত্যাগ, দান, ভাগাভাগি করে খেতে শেখায়।

রোজার দিনে খাবার

বছরের অন্য সময়ের খাবারের সঙ্গে রোজার খাওয়ার বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। মেন্যু ও পরিমাণ (ক্যালরি) ঠিক রাখতে পারলেই হল। বাস্তবতা হল রোজার মাসে কর্মব্যস্ততা, অফিস ইত্যাদি রাতে করতে পারলে ভালো হতো, দিনের বেলা পারতপক্ষে কম কায়িক পরিশ্রম করতে পারলে ভালো। সমস্যা হল রোজার সময় আমরা বিশেষ খাবার খাই। ইফতারের পর অর্থাৎ রাতের প্রথমার্ধে দিনের খাবারের অধিকাংশটুকু খেয়ে ফেলি, ৬ বারের খাবার ৩ বারে সারতে হয়।

মিষ্টি জাতীয় খাবার ও বেশি খাওয়া হয়। নাস্তা যদি ইফতার হয় ডিনার যদি সেহেরি হয় তারাবির পর যদি লাঞ্চ করি তাহলে সমস্যা নেই। সমস্যা হল কেউ কেউ ইফতারেই রাতের খাবার সেরে নেন; অনেকেই শেষ রাতে কিছু খান না। শেষ রাতে খেতে হবে রেগুলার খাবার-কমপ্লেক্স কার্বহাইড্রেট। রোজাদারের জন্য মিষ্টি বাদ দিতে হবে। চর্বি জাতীয় খাবার ও ভাজাপোড়া কম খেতে হবে। ভাজাপোড়ায় তেল/চর্বি বেশি (চর্বিতে ক্যালরি বেশি)। ভূরি ভোজ চলে না। বারবার কম (২-৩ ঘণ্টা পরপর) খাওয়া ভালো।

ফল

সবার জন্য ফল খাওয়া ভালো। ডায়াবেটিক রোগীর প্রতিদিন একটা মিষ্টি ফল খাওয়া উচিত। টক ফল খাওয়া খুব ভালো। ফলে ফ্রুক্টোজ থাকে। ফ্রুক্টোজ স্বাদে চিনির মতো মিষ্টি কিন্তু এতে গ্লুকোজ কম। রোজার দিনে আমাদের খেজুর খাওয়ার অভ্যাস। খেজুর নিষেধ নয়। পরিমাণ (প্রতিদিন ৪/৫ টা) ঠিক রেখে খেলে বরং উপকার।

পানি

হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা হাইপারগ্লাইসেমিয়ার মতো ডিহাইড্রেশন ডায়াবেটিসের জন্য খারাপ। এটি রক্তের জমাট বাঁধার (থ্রম্বোসিস) ঝুঁকি বাড়ায়। যদিও এমন কোনো প্রমাণ নেই যে এর জন্য রোজায় রক্তনালির ব্লক বাড়ে তবে পানি বেশি পান করতে হবে। অতিরিক্ত কায়িক শ্রম কমাতে হবে। রাতের বেলা সারাদিনের দরকারি পানি পান করে ফেলতে হবে।

গরমের দিনে রোজা, দিন বড়। পানির ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। পানি সমৃদ্ধ ফল শসা, টমেটো, তরমুজ ও ডাব বেশি খেতে হবে। রাতের বেলা, সন্ধ্যা শুরু থেকে সেহেরির শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত পানি খাওয়া চলবে। দিন বড় বলে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। দুনিয়ার অনেক দেশই আছে যেখানে দিন শুরু হয় ভোর ৫টায় শেষ হয় রাত ১০ টায়(১৭-১৮ ঘণ্টা রোজা)। আমাদের শরীরের এডজাস্টমেন্ট ক্ষমতা অনেক বেশি।

সারাদিনের অভুক্ততায় দূষিত পদার্থ ও অপ্রয়োজনীয় জিনিষ শরীর বার্ন করে। গবেষণা বলে লং ফাস্টিং- বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকা (রোজা হোক আর নাই হোক) স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

লেখক : অধ্যাপক ডা. খাজা নাজিম উদ্দীন, মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, বারডেম হাসপাতাল, শাহবাগ, ঢাকা।

আজকের পত্রিকা/মির