ভ্যানগাড়িতে রহিমা বেগমের মরদেহ

ছেলের লাঠির আঘাতে রহিমা বেগম (৭১) নামের এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। মাকে হত্যার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে একরামুল হক (২৭) পলাতক রয়েছেন।

তবে এলাকাবাসীর সহায়তায় অপর দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। নিহত রহিমা বেগম গৌরাঙ্গাপুর এলাকার শামযাত হাজির স্ত্রী।

২৬ মে রবিবার দুপুরে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরশহরের গৌরাঙ্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সকালে ঈদের কেনাকাটা বাবদ মা রহিমা বেগম বড় ও মেজো ছেলেকে টাকা না দিয়ে তার ছোট ছেলে আমিরুল হককে দুই হাজার টাকা দেন। আমিরুল মায়ের দেয়া টাকা পেয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে চলে আসেন মুন্ডুমালা বাজারে।

এরই মধ্যে ছোট ছেলেকে টাকা দেয়ার কথা শুনে বড় ছেলে আব্দুল হক ও মেজো ছেলে একরামুল হক মিলে মায়ের কাছে তিন হাজার করে টাকা দাবি করেন। তার মা দুই ছেলেকে এক হাজার করে টাকা দিতে চান। কিন্তু দুই ছেলে এতে রাজি হননি। এ দ্বন্দ্বে মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু করে দুই ছেলে। একপর্যায়ে মেজো ছেলে একরামুল বাড়িতে থাকা একটি মোটা লাঠি দিয়ে তার মায়ের ঘাড়ের ওপরে জোরে আঘাত করলে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন মা রহিমা বেগম।

প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত রহিমা বেগম রোজা অবস্থায় ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তানোর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে ছেলে একরামুল পলাতক রয়েছেন। তবে অন্য দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মায়ের মরদেহ উদ্ধার করে রামেক মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস