এভাবেই ডাক্তার শুন্য থাকে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসা দেয়ার কথা। কিন্তু এ উপজেলার মানুষ কিছুই পাচ্ছেন না। নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানে চিকিৎসা সেবা নাজুক পর্যায়ে পৌঁছার কারণে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এখানে ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যায় না। এখানকার ডাক্তাররা যেনো হাসপাতালে বেড়াতে আসেন।

প্রতিদিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও এখানে দেখা মেলে না চিকিৎসকের। একই অবস্থা জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও। স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কর্মরত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের খামখেয়ালিপনায় ব্যাহত হচ্ছে উপজেলাবাসী স্বাস্থ্যসেবা। কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট বিদ্যমান থাকাবস্থায় সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম গিলে খাচ্ছে পুরো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে।

অভিযোগ রয়েছে, কর্তব্যরত ডাক্তার প্রায় রোগীকে সেবা না দিয়ে রেফার্ড করে দেন। ফলে বাড়তি কষ্ট পোহাতে হয় গরীব রোগীদের।

চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্নের ৯ বছর পরও চালু করা যায়নি। হাসপাতালে ডাক্তার সংকটসহ নানা সমস্যা তো রয়েছেই।

এভাবেই ডাক্তার শুন্য থাকে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপেক্ষা করেন রোগীরা।

এ অবস্থায় চুনারুঘাটের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানা যায়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চুনারুঘাটে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়। সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালের কাজ সম্পন্ন হয় ২০০৯ সালে। কিন্তু আজো ভবনটি উদ্বোধন হয়নি।

এদিকে হাসপাতালে ডাক্তার সংকট, কর্মকর্তা/কর্মচারী সংকট, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ইতোপূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালুর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

চিকি’ৎসকের চেম্বার খালি পড়ে থাকে এভাবেই।

অভিযোগ রয়েছে, কর্তব্যরত ডাক্তাররা নির্দিষ্ট টাইমের আগে তাদের কক্ষ ত্যাগ করেন। ফলে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে শুকনো মুখ বাড়ি ফেরেন। ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির বিভিন্ন কক্ষ তালাবদ্ধ। শুধুই কি তাই। ডাক্তাররা নানা অজুহাতে প্রায়ই ছুটিতে থাকেন বলে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এসব অভিযোগের কথা অস্বীকার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলে চিকিৎসকেরা বাইরে থাকেন। বাকি সময়গুলোতে পাঁচজন চিকিৎসক শিফট অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ৫০ শয্যার সুবিধা নিশ্চিত করলে চলমান সমস্যাগুলো থাকবে না।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস