১ হাজার ৭৬১ টি অনুমোদনহীন রেল ক্রসিং। ছবি : সংগৃহীত

১২ জানুয়ারি শনিবার ভোর পাঁচটায় রাজধানী ঢাকার মগবাজার রেল ক্রসিংয়ে ট্রাক ও ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে। এ দুর্ঘটনা আবার প্রমাণ করলো বাংলাদেশের রেল ও সড়কের অব্যবস্থাপনা। নাগরিকদের তাই প্রশ্ন, কবে টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মগবাজার রেল ক্রসিংয়ের ওপর বিকল হয়ে যাওয়া একটি ট্রাক ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে যায়। দুই দফায় দুটি ট্রেন ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ভোর পাঁচটার দিকে বলাকা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ট্রাকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় এখন একটি লাইনে রেল চলাচল করছে। অপর লাইনে রেল চলাচল বন্ধ। পরে দুপুরের দিকে দুইটি লাইন সচল হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, সারাদেশে ১ হাজার ৭৬১ টি অনুমোদনহীন রেল ক্রসিং আছে। ২ হাজার ৮৩৫ কিলোমিটার রেলপথের ২ হাজার ৫৪১টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে । এর মধ্যে ৭৮০টি অনুমোদিত ক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র ২৪২টিতে রক্ষী বা গেইটকিপার আছে। বাকি অনুমোদনহীন রেল ক্রসিং এ কোনো গেইটকিপার নেই। এসব কারণে রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাণ গেছে মানুষের। তবু কর্তৃপক্ষ এখনো নির্বিকার।
রেল ক্রসিংয়ের সমস্যা শুধু রাজধানীর মগবাজারই নয়, সারাদেশেই আছে। সবমিলিয়ে রেলক্রসিংগুলো কতটা নিরাপদ এ প্রশ্ন আবার সামনে এলো এই সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ বছরে সারা দেশে লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে প্রায় এক হাজার। এতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ। আহত হয়েছেন চারশ অধিক।
এ বিষয়ে সাবেক রেলওয়ের পরিচালক (ট্রাফিক) সৈয়দ জহিরুল হক বলেছেন, ‘রেলপথে যে কোনো স্থানে অনুমোদন না নিয়েই লেভেল ক্রসিং বানাচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণ। আর এতে অনেক সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সায়ও রয়েছে। এ নিয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের। আর এসব কারণে সবগুলো লেভেল ক্রসিংয়ে রক্ষী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না।’
তিনি জানান, ‘রাজধানীতে রেলপথের প্রতি ১ থেকে ২০০ গজ পর পর লেভেল ক্রসিং বানাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু এসবের জন্য রেলের কাছ থেকে তারা কোনো অনুমোদন নেয়নি।’
রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেছেন, ‘বিগত বিএনপি সরকারের আমলে রেলের প্রায় ২৪ হাজার কর্মী সংকট ছিল। গত তিন বছরে রেলে ৯ হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আগামীতে ১৩শ’র মতো গেট কিপার নিয়োগ দেয়া হবে।’
রেল ক্রসিংয়ে গেইটকিপার নিয়োগ সম্পর্কে মহাপরিচারক বলেন, ‘এ নিয়োগ সম্পন্ন হলে গেটের সমস্যা মিটে যাবে। দুর্ঘটনা কমে যাবে। তবে অনেক স্থানে অবৈধ লেভেল ক্রসিং গড়ে উঠেছে। এগুলোতে আমাদের মতামত বা অনুমোদন নেয়া হয়নি। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’