রজনবল সংকটে রেলওয়ে। ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে জনবল সংকটে চলছে রেলওয়ে। ৪০ হাজার জনবলের মধ্যে কর্মরত রয়েছে মাত্র ২৪ হাজার। বাকি ১৬ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের কিছু পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়মিত হলেও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ।

এছাড়া বিভিন্ন মামলার কারণে অনেক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারছে না রেলওয়ে। তাই জনবল সংকটের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে পারছে না রেলওয়ে। এই সমস্যা সমধানে জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ১১টি সুপারিশ করেছে রেলওয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি।

এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ১. রেলওয়েকে সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য জরু রিভিত্তিতে জনবল নিয়োগ, ২. বিদেশ থেকে কোচ আমদানি বন্ধ করে সুষ্ঠু পরিকল্পনা, ৩.নিজস্ব কারখানায় কোচ উৎপাদন, ৪.অটোমেটিক ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করে সেলফ টিকেটিং ব্যবস্থা, ৫.যাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণে কিউআর কোড সংযুক্ত করা, ৬.তথ্যভিত্তিক কম্পিউটারাইজড অনুসন্ধান ও রিজার্ভেশন সিস্টেম চাল করা।

এছাড়াও অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ৭. ওয়ান স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা করা, উপযোগী রেল ইঞ্জিন আমদানি করা এবং পর্যায়ক্রমে সব রেলপথ ব্রডগেজে রূপান্তর করা, ৮. ইলেকট্রিক ট্রেন চালু ব্যবস্থা, ৯. ঢাকা-লাকসাম কর্ড লাইন স্থাপন, ১০. রেলওয়ে হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন, সামাজিক সেবা বৃদ্ধি করা ও রেলওয়ে প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং ট্রেনিং ইউনিট আধুনিকায়নের সুপারিশ করে সংগঠনটি।

এ সম্পর্কে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের সক্ষমতা মানে দেশের সক্ষমতা। পদ্মা সেতু, মেট্টোরেলসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বিদেশি কোম্পানিগুলো নিজেদের মতো সম্পন্ন করে যাচ্ছে’।

তিনি বলেন, ‘ দেশের প্রকৌশলীদের সেই সক্ষমতা না থাকায় তা জানা বা বোঝার কোন সুযোগ থাকছে না। চীনা কোম্পানিগুলো নিজেদের মতো কাজ করল, আমরা জানলামও না, বুঝলামও না। আমাদের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বলেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বলেন, আপনাদের সক্ষমতা মানে দেশের সক্ষমতা। এ সক্ষমতা যেন আমরা প্রত্যেকে তৈরি করতে পারি’।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ঐতিহ্যবাহী রেলওয়েকে গর্বের জায়গায় নিয়ে আসার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে রেলওয়ে খাতে পণ্য পরিবহন ২৫ থেকে ১১ ভাগে নেমে এসেছে। পণ্য পরিবহনে রেলকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেয়া হবে’।

আজকের পত্রিকা/আর.বি/