পুরো ম্যাচ কোর্তোয়ার দিকে খেলনা ইঁদুর ছুড়ে মেরেছে দর্শকরা। ছবি: দ্যা সান

শহর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে খ্যাত রিয়াল মাদ্রিদ এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। একই শহরের এই দুই ক্লাব যখন একে অপরের মুখোমুখি হয় তখন সেই ম্যাচকে সিটি ডার্বি বলা হয়ে থাকে।

সাধারণত এই সকল প্রতিদ্বন্দ্বী দলের খেলোয়াড়গুলো কখনও, খেলোয়াড়দের দল বদলে অন্য ক্লাবে গেলেও নিজেদের রাইভাল দলের হয়ে দল বদল করতে চান না। তবে এই ইতিহাসের রদবদল করতে দেখা গেছে কিছু খেলোয়াড়দের। যেমন লুইস ফিগো। পাঁচ বছর ধরে বার্সেলোনা সমর্থকদের নয়নের মণি হয়ে থাকার পর যোগ দিয়েছিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদে। এ নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল প্রচুর। রিয়ালের হয়ে বার্সার মাঠে যেবার প্রথম খেলতে গিয়েছিলেন, ফিগো ‘অভ্যর্থনা’ পেয়েছিলেন শূকরের মাথা দেখে। তাঁর দিকে গ্যালারি থেকে ছুড়ে মারা হয়েছিল একটি খেলা শূকরের মুণ্ডু। ২০০০ সালের সেই ঘটনারই যেন পুনরাবৃত্তি হলো শনিবার। ১৯ বছর পর ফিগো অভিজ্ঞতাই হলো থিবো কোর্তোয়ার। পার্থক্য হচ্ছে, ফিগো দেখেছিলেন শূকরের মাথা। কোর্তোয়ার দিকে ছুটে এল ইঁদুর! তবে সেটি ফিগোর মতোই ছিল খেলনা।

ইংলিশ ক্লাব চেলসি থেকে তিন বছরের জন্য ধারে অ্যাটলেটিকোতে খেলেছিলেন কোর্তোয়া। অ্যাটলেটিকো-অধ্যায় শেষ করে বছর পাঁচেক চেলসিতে খেলেছেন। এ বছরই যোগ দেন অ্যাটলেটিকোর নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালে। যে ক্লাবেই কোর্তোয়া খেলুন। তিনি রিয়ালে যাবেন, অ্যাটলেটিকো সমর্থকেরা সেটি মানবে কেন! রিয়াল যে অ্যাটলেটিকোর চিরকালীন শত্রু।

গতকাল এসব কিছুর ‘শোধ’ তুললেন যেন অ্যাটলেটিকোর সমর্থকেরা। লিগে গতকাল অ্যাটলেটিকোর মাঠে খেলতে এসেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। পুরো ম্যাচ কোর্তোয়ার দিকে খেলনা ইঁদুর ছুড়ে মেরেছে তারা। এমনকি ম্যাচ শুরু আগে মাঠের বাইরে থাকা কোর্তোয়ার সেই স্মারকটাকেও বিকৃত করেছে তারা, স্মারকের ওপর মূত্র বিসর্জন করেছে, মদ ঢেলেছে, থুতু ফেলেছে— আরও কত কি!

ম্যাচ শেষের হাঁসিটা অবশ্য রিয়ালের অ্যাটলেটিকোকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে কোর্তোয়ার বর্তমান ক্লাব।

আজকের পত্রিকা/এসএমএস