রিফাত হত্যা

বরগুনায় আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক। এক আসামির জামিন নামঞ্জুর করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। অন্যদিকে শিশু আদালতে ছয় কিশোর অপরাধীর জামিন আবেদন করা হলে মূল নথি না থাকায় জামিন শুনানি হয়নি। এদিকে পলাতক কিশোর অপরাধী নাঈমকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

১৬ অক্টোবর বুধবার মামলার নিয়মিত ধার্য্য তারিখে পৃথক দুইটি আদেশ দেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান ও ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসির আরাফাত।

বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় বরগুনা জেলা কারাগার থেকে বয়স্ক আট জন আসামিকে বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসির আরাফাতের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় জামিনে মুক্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিও আদালতে উপস্থিত হন। ওই আদালতে বয়স্ক আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, রেজোয়ানুল ইসলাম টিকটক হৃদয়ের পক্ষে জামিনের আবেদন করলে মুল নথি না থাকায় তাদের জামিন শুনানি হয়নি। তবে পলাতক আসামি নাঈমের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

কিশোর অপরাধী রাশেদুল হাসান রিশান ফরাজি, অলিউল্লাহ অলি, তানভির হোসেন, মারুফ মল্লিক, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার ও আবু আবদুল্লাহ রায়হানের জামিন আবেদন করা হলে মূল নথি না থাকায় তাদের জামিন আবেদনের শুনানি হয়নি শিশু আদালতে। অপরদিকে বয়স্ক আসামি আল কাইয়ূম রাব্বি আকনের ফৌজদারী মিস কেস জামিন নামঞ্জুর করেছেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

বয়স্ক আসামি আল কাইয়ূম রাব্বি আকনের আইনজীবী মো. হুমায়ূন কবির বলেন, ‘‘রাব্বিকে ১২ জুলাই পুলিশ তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে। আমি যতদূর জানি এই আসামি রিফাত হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল না। রাব্বি জড়িত থাকলে তার বাসায় না থেকে লুকিয়ে থাকতো। পুলিশ টর্চার করে ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাব্বির জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে। সেই জবানবন্দিতে রাব্বি বলেছে, ‘ঘটনার সময় তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।’’

বাদীর আইনজীবী এম. মজিবুল হক কিসলু বলেন, ‘রাব্বি রিফাত হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। রাব্বি জবানবন্দিও দিয়েছে। এছাড়া অভিযোগপত্রে রাব্বি দুই নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।’

এখন পর্যন্ত রিফাত হত্যা মামলার ১৫ জন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সাত জন আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ও আরিয়ান শ্রাবন জামিনে রয়েছেন।

৩ অক্টোবর বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী এ মামলার পলাতক আট অভিযুক্তের মালামাল জব্দের নির্দেশ দেন। এ মামলার দুই অভিযুক্ত আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তারা হলো- প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত অভিযোগপত্রের ৬ নম্বর অভিযুক্ত মো. মুসা (২২), অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত অভিযোগপত্রের ৬ নম্বর অভিযুক্ত মো. নাইম (১৭)।

১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে আহত করে। রিফাতকে ওই দিনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আজকের পত্রিকা/কেএফ