আইনজীবীর সাথে মিন্নির সাক্ষাত

বরগুনায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি সাক্ষাৎ করতে সুপ্রিম কোর্ট বারে তার আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

রবিবার সুপ্রিম কোর্ট বারে আইনজীবী জেড আই খান পান্নার চেম্বারে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, ‘ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। চার্জশিটের কথা তো আগাগোড়াই বলেছি, এটা একটা মনগড়া উপন্যাস। মূলত মূল আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য এ ধরনের কারবার করা হয়েছে। নাথিং নিউ। জজ মিয়া এবং জাহালমের আরেকটা সংস্করণ।

আদালতে মিন্নির দেওয়া জবানবন্দি প্রকাশের বিষয়ে এ সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, দেখেছি। আমি তো কোর্টে বসেই দেখেছি। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত যখন আমাদের দেখাতে দিতে বলেছিলো তখন এক নজর দেখেছি। সেটাও (১৬৪ ধারার জবানবন্দি) একটা উপন্যাস। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি কোর্টকে বলেছেন-এতো সুন্দর করে লেখা যা চিন্তার বাইরে। সুস্থ মাথায় এতো সুন্দরভাবে লেখতে পারে না।

এটা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, আগেই করা হয়েছে। মিন্নি নিজে জেলখানা থেকে করেছে।

এর আগে শনিবার বিকেলে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে বরগুনা ত্যাগ করেন মিন্নি। মিন্নির সঙ্গে তার নানা ও আরেক আত্মীয়ও রয়েছেন। মিন্নির যাওয়ার সময় বাসা থেকে বরগুনা লঞ্চঘাট পর্যন্ত দু’জন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে দেখা গেছে।

মিন্নির ঢাকায় আসার বিষয়ে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর জানান, মিন্নির মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ। পাশাপাশি শরীরে নানা ধরনের রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তার দ্রুত উন্নত চিকিৎসা জরুরি। কিশোর অভিযোগ করেন, রিমান্ডে নিয়ে তার মেয়েকে পুলিশ নির্যাতন করেছে। তার দুই হাঁটুতে এখনও ব্যথা। তা ছাড়া রিফাত হত্যায় জড়িয়ে পুলিশ অভিযোগপত্র দেওয়ায় মিন্নি দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভুগছে। তাই তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া বিনা পারিশ্রমিকে মিন্নি তার জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই করা আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাবেন। রোববার মিন্নি তার প্রধান আইনজীবী জেড আই খান পান্নার চেম্বারে তার পক্ষে লড়াই করা সব আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় অভিযোগপত্রের ব্যাপারেও আইনজীবীদের পরামর্শ নেবেন।

রিফাত হত্যা মামলায় ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। ওই অভিযোগপত্রে মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ে বর্তমানে জামিনে আছেন মিন্নি।

-এস