সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ৩ টি সড়কে রিকশা বন্ধের প্রতিবাদে টানা ২ দিন বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করার পর আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগ। ১০ জুলাই বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক সংবাদ সম্মেলন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী বলেন, “পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তায় নামবো না।”

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সিদ্ধান্তে ৭ জুলাই রবিবার থেকে কুড়িল থেকে সায়েদাবাদ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে শাহবাগ এবং গাবতলী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর প্রতিবাদে ৮ জুলাই সোমবার মুগদা, মানিকনগর, মাণ্ডা, বালুরমাঠ ও কমলাপুর টিটিপাড়ায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও যানবাহন চলাচলে অবরোধ সৃষ্টি করেন রিকশা চালকরা।

এরপর ৯ জুলাই মঙ্গলবার তাদের অবরোধের কারণে কুড়িল থেকে বাসাবো পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কে যানবাহন চলাচল সারাদিন বন্ধ থাকে।

রিকশা চালকদের দাবি ছিলো, বিকল্প ব্যবস্থা না করে রিকশা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। রিকশা চলাচলের জন্য প্রয়োজনে আলাদা লেইন করে দিতে হবে। পাশাপাশি ঢাকার রাস্তা থেকে অবৈধ রিকশা উচ্ছেদ করতে হবে।

৯ জুলাই মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাসড়কে ধীর গতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেইন করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর এলে রাতেই আন্দোলন স্থগিত করার ইংগিত দেয় জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগ।

এরপর ১০ জুলাই বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ইনসুর আলী বলেন, “রিকশা মালিক-শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে মহাসড়কে আলাদা লেইন তৈরির নির্দেশ দেওয়ায় আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই।”

রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগের এই নেতা বলেন, ১১ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তাদের মহা সমাবেশের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। রিকশা চালকরাও পরবর্তী সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত রাস্তায় কোনো আন্দোলনে যাবেন না।

যে তিন সড়কে রিকশা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো, সেসব রাস্তায় ১০ জুলাই বুধবার সকাল থেকে আবার রিকশা চলছে জানিয়ে ইনসুর আলী বলেন, “আমরা সারা ঢাকা শহরে খবর নিয়েছি, কোনো রাস্তায় পুলিশ বাধা দিচ্ছে না। নতুন লেইন তৈরি করার আগ পর্যন্ত এই সকল রাস্তায় রিকশা, ভ্যান চলবে।”

ঢাকায় ‘অবৈধ রিকশা’ চলাচল বন্ধের দাবিও এ সংবাদ সম্মেলন থেকে তুলে ধরেন ইনসুর আলী।

তিনি বলেন, “ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসন, পুলিশ, রিকশা ভ্যান মালিক সমিতির সমন্বয়ে অবৈধ রিকশা উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে একটি সমন্নয় কমিটি গঠন করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। অবৈধ রিকশা উচ্ছেদ অভিযানে রিকশা ভ্যান মালিক শ্রমিকরা সহযোগিতা করবে।”

১১ জুলাই মহাসমাবেশ স্থগিত করা হলেও সেদিন প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানান ইনসুর আলী।

জাতীয় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আজহার আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আয়নাল মোল্লা, বাংলাদেশ রিকশা ভ্যান মালিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আর এ জামান, সহ সভাপতি মো. আরজু আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম গিয়াস উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক পূর্ব বিভাগের উপ কমিশনার কামরুজ্জামান বলেন, “আন্দোলনকারীরা আজ নেই, রিকশাও চলছে। কারো পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে দুই দিন বন্ধ থাকার পর আজ রিকশার সংখ্যা কম।”

আজকের পত্রিকা/কেএফ