রাস্তা পারাপারের সময় একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারায়। ছবি : সংগ্রহীত

রাস্তা পারাপারে দুর্ঘটনায় বাড়ছে শিক্ষার্থী মৃত্যুহার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, রাস্তাা পারাপারের সময় বেপরোয়া যানবাহনের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যাও বেড়েছে। গত সোয়া ২ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৪ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

রাজধানীর বাইরে বেপরোয়া ট্রাক, পুরনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চালানোসহ নানা কারণে কমছে না দুর্ঘটনা। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর আন্দোলন হলেও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও পথচারীর মৃত্যুর ঘটনাও অনেক।

শুধু রাস্তা পার হতে গিয়ে বেপরোয়া যানবাহনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজার ৩৩০ পথচারী। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ৯ হাজার ১৭৯। আহত হয়েছেন প্রায় ৯ হাজার। এসব ঘটনায় যানবাহন ও চালক আটক এবং মামলা করা হলেও দুর্ঘটনা থামছে না।

কুষ্টিয়ায় বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে পরে শিশুর মৃত্যু। ছবি : সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, রাস্তা পারাপারের সময় নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বেপরোয়া যানবাহন চালনা যেমন দায়ী, একইসঙ্গে পথচারীদের অসচেতনভাবে চলাচলও দায়ী।

পুলিশ ও সংশ্লিস্ট সূত্রে পাওয়া পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। রাস্তা পার হতে গিয়ে ৫৪০ জন নিহত হয়েছেন। গত ৩ মাসে ৯০৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৬২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩ জন।

এসব দুর্ঘটনার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৬৬৩ জন চালক ও ১ হাজার ৯৮৪টি যানবাহন আটক করেছে। মামলা করা হয়েছে ৮৪৯টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৪৯ কোটি ৮৯ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৫ টাকা।

২০১৮ সালে দেশে ৩ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪ হাজার ১০২ জন। তার মধ্যে শিক্ষার্থী ৭৯ জন ও পথচারী ২ হাজার ৪২০ জন। শুধু রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে ২৭১টি। ঢাকা বিভাগে ৭শ’র বেশি বলে জানা গেছে।

এসব দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৬৪৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় চালক আটক হয় ৯৫১ জন ও যানবাহন জব্দ হয় ৫ হাজার ৪৪৭টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১৪৭ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার ১৭৩ টাকা।

২০১৭ সালে ৪ হাজার ১৪৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ১১৫ জন। এরমধ্যে শিক্ষার্থী ৫৩ জন ও পথচারী ২ হাজার ৩৭০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৪ হাজারেরও বেশি। ৩ হাজার ৮৬৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ ৮৪৬ চালক ও ৬ হাজার ৩৫৮টি যানবাহন আটক করেছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১১২ কোটি ১৪ লাখ ৮২ লাখ ৩৬৬ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, ট্রাফিক বিভাগ থেকে ড্রাইভার ও যানবাহনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করার পর তারা জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। এরপর আবার যানবাহন নিয়ে রাস্তায় নামছে। তারা রাস্তার মোড়, জেব্রা ক্রসিংসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়ম না মেনে যানবাহন চালানোর কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলেও অন্যসময় থাকে তার উল্টো চিত্র। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পার হওয়া, কানে হেডফোন লাগিয়ে রাস্তা পার হওয়া, বেপরোয়া গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুই গাড়ির মাঝ দিয়ে চলাচল, ফুটপাথ ব্যবহার না করে প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটাসহ নানা কারণে পথচারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

অভিযোগ রয়েছে, দেশে সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা হলেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এখনো চলছে কনস্টেবলের হাত ও লাঠি নির্ভর। সিগন্যাল নয়, হাত নড়াচড়া দেখে গাড়ি সিগন্যাল পয়েন্ট অতিক্রম করে।

ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক উত্তর বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, অনেক ড্রাইভার ও হেল্পার মোটরযান আইন সম্পর্কে কিছুই জানে না। তাদের মোটরযান আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

আজকের পত্রিকা/আর.বি/