মেঘনা পাড়ে ইজারা ছাড়াই চাঁদা আদায়।ছবি:সংগৃহীত

জেলার রামগতির মেঘনা নদীর পাড়ে সেনাবাহিনী নির্মিত বেড়ী বাঁধটি ইতোমধ্যে মিনি কক্সবাজার নামে খ্যাতি অর্জন করেছে। এখানে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা বেড়াতে আসেন। পর্যটকদের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে বেড়ী বাঁধের আশ-পাশে গড়ে উঠেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী শতাধিক দোকানপাট। অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকানপাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে মেঘনা পাড়ে গড়ে উঠা এসব দোকান থেকে। এতে করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের থেকে যানবাহন পার্কিং নামে আদায় করা হচ্ছে ৫০-১০০ টাকা হারে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকে মেঘনা নদীর পাড়। সেখানে ভাসমান দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন ২শ-৩শ টাকা ও বড় দোকানগুলো থেকে ৫শ টাকা হারে চাঁদা তুলছেন স্থানীয় জাফর নামে এক যুবক। চাঁদাবাজির পুরো কার্যক্রমে রক্ষা করা হচ্ছে কঠোর গোপনীয়তা। সরেজমিনে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ব্যবসায়ীরা যাতে মুখ না খোলে এজন্য তাদের হুমকী দিচ্ছে ওই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ‘মেঘনা নদীর পাড় ইজারা না হলেও আমাদের নিয়মিত প্রতিদিন চাঁদা দিতে হচ্ছে। কিন্তু কোন রশিদ আমাদেরকে দেয়া হচ্ছে না। টাকাগুলো কোথায় যাচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না।
অভিযোগের বিষয়ে জাফরের মুঠোফোনে (০১৮৩৪৭৩৬৭৭৭) কল করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি লাইন কেটে ফোন বন্ধ করে দেন। তবে এর আগে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন।বিষয়টি জানতে রামগতি পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু’র মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। তাকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাধ করা হবে।

আজকের পত্রিকা/মোঃ সোহেল রানা/লক্ষ্মীপুর/রাফাত