রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

গত মে মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে। সে হিসেবে জুন মাসে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রলীগের কোনোরকম অগ্রগতি চোখে পড়েনি কারোর। কেন্দ্রীয় কমিটির এই সিদ্ধান্তকে যেন তোয়াক্কাই করছে না বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এ নিয়ে অনেক নেতা কর্মীরাই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

গত মে মাসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পর সারাদেশে ছাত্রলীগের অন্যান্য শাখাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়াও গত ১৬ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুকে ফোন করা হয়।

এসময় সম্পাদক রুনুকে জুনের ২৫ তারিখের মধ্যে সম্মেলন করে হল কমিটি করতে বলা হয়। কিন্তু হল কমিটি করার বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে এখনো কোনো আলোচনা শুরু হয়নি বলে জানাচ্ছে ছাত্রলীগ সূত্র।

জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নেই ছাত্রলীগের। ছাত্রদের ১১টি হলে সর্বশেষ ২০১৫ সালে একবছর মেয়াদী কমিটি দেয়া হয়। সেই হিসেবে ২০১৬ সালে শেষ হয়েছে কমিটির মেয়াদ। এতদিনে নতুন কমিটি ঘোষণা করার কথা থাকলেও সংগঠনটিই মানছে না নিজস্ব নীতি।

আর ছাত্রীদের ৬টি হলে ঠিক কত বছর ধরে কমিটি হয়নি, তা জানেই না খোদ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা। ফলে হলগুলোতে নেতৃত্বশূণ্য ছাত্রলীগে কোনো চেইন অব কমান্ড নেই। ইচ্ছেমতো নেতাকর্মীরা সিটবাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়াচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের কাছে ছাত্রলীগের ইমেজ সংকট ক্রমেই বাড়ছে।

শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, হল কমিটি দেয়ার মত সামর্থ্য এই কমিটির নেই। কারণ- বর্তমানে হলগুলোতে যারা দায়িত্বে আছেন, তারা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। আর তারা হলগুলোতে নেতৃত্ব দিবে এমন কোনো নেতা তৈরি করেন নি। ফলে যখন তারা হল কমিটি দিতে যাবে, তখন দায়িত্ব দেয়ার মতো কোনো যোগ্য ছেলেই তারা পাবেন না। সে কারণেই বর্তমান কমিটি হয়তো ছাত্রলীগের হল কমিটি দিতে গড়িমশি করছে।

অবশ্য রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলছেন, হল কমিটি দেয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে আশা করছি দ্রুত হল কমিটি দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

জাহাঙ্গীর আলম/রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়