রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আগামীকাল সোমবার শুরু হতো যাওয়া ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে মূখরিত হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এ বছর তিনটি ইউনিটে প্রতি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে ১৬ জন ভর্তিচ্ছু। এরমধ্যে র‌্যাগিং রুখতে সোচ্চার হয়েছে প্রশাসন । যে কোন মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং নামক অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে ইতিমধ্যে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। র‌্যাগ দেওয়ার কোন প্রমাণ পেলে ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। তাছাড়া ক্যাম্পাসে বাড়ানো হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এবছর তিনটি ইউনিটে ৪ হাজার ৭১৩টি আসনের বিপরীতে ৭৮ হাজার ৯০টি আবেদন জমা পড়েছে। এ, বি এবং সি’ এই তিনটি ইউনিটে এমসিকিউ ও লিখিত উভয় পদ্ধতিতে দেড় ঘণ্টায় একশ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্নের জন্য ইতোমধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষায় কোনো ধরনের জালিয়াতির সুযোগ নেই। পরীক্ষার হলে ঘড়ি, মোবাইল, ক্যালকুলেটরসহ সকল প্রকার ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ। পরীক্ষা চলাকালীন অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ভ্রাম্যমাণ আদালতও নিয়োজিত থাকবে। কোনো শিক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করলে তাৎক্ষণিক তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান বলেন, বড় ভাই এলেই তাকে সালাম দিতে হবে। সম্মান করতে হবে। এগুলো অপসংস্কৃতি। এই অপসংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভর্তিচ্ছুদের কোন ধরনের হয়রানি বা র‌্যাগিংয়ের খবর পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন ছাত্র র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে। এবং মেস মালিক সমিতি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা নীতিগত জায়গা থেকে ভর্তিচ্ছুদের থেকে কোন ধরনের অর্থ নেওয়া হবে না। এরপরেও মেস মালিকরা যদি গোপনে অর্থ নিয়ে থাকে তাহলে আমাদের বা ভতিচ্ছুদেরও কিছু করার থাকবে না। অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বা বাধ্য হয়েও তারা টাকা দিতে পারে। অসদুপায়ে কোন ভর্তিচ্ছু থেকে টাকা না নেওয়া হয় তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবার দোকানগুলোতে ভর্তিচ্ছু বা অবিভাবকদের থেকে বেশি টাকায় খাবার বিক্রি করার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, নির্ধারিত দাম উল্লেখ করে চার্ট করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত দামের বাইরে কেউ বেশি দাম নিতে পারবে না। এর বাইরে কোন দোকানদার বেশি দাম নিলে বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য সারাক্ষণ ভ্রামমাণ ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদেরকে কেউ হয়রানি করলে সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো দোকানী পণ্যের মূল্য বেশি রাখলেই আমরা কঠোর হবো। কোনো প্রকার ছিনতাই, অপরাধের সুযোগ কেউ খুঁজলে তার পরিণাম খারাপ হবে।

এমএ জাহাঙ্গীর/রাবি