রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পুকুরগুলো সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ‘সাত পুকুর গবেষণা প্রকল্পের‘ আওতায় এই কাজে ব্যয় করা হবে প্রায় ৮০ লাখ টাকা। আগামী তিন বছরে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের সার্বিক তত্বাবধানে ও ফিসারীজ বিভাগের সহযোগিতায় এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ৮ টি পুকুরে শিক্ষার্থীদের গোসল, সাঁকার কাটা ও ফিসারীজ বিভাগের গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আগ্রহে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৩১তম সভার ৪৬ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক ‘সাত পুকুর গবেষণা প্রকল্প‘ নামে এই প্রকল্পটি পাস করা হয়। এ কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

এই কমিটির তত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হল পুকুর, হবিবুর রহমান হল পুকুর, মন্নুজান হল সংলগ্ন পুকুর, সায়েন্স ওয়ার্কসপ পুকুর, মেডিকেল সেন্টারের সামনের পুকুর, শহীদ হবিবুর রহমান হলের পশ্চিমের পুকুর, রোকেয়া হলের উত্তর-পূর্বের কচিয়া পুকুর ও পদ্ম পুকুর সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে।

এই পুকুর সমূহের সংস্কারের মধ্যে রয়েছে- পুকুরের পাড় ও ঘাট নির্মাণ, সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ফুল গাছসহ অন্যান্য মানানসই গাছ লাগানো, বসার জায়গা নির্মাণ, ঘাস লাগানো, পুকুরের পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন র্নিমাণ ও বিভিন্ন আলোক সজ্জার বাতি লাগানো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতর সূত্র বলছে, পুকুরগুলো সংরক্ষণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪২ টাকা। আর পুকুরগুলোতে মাছের পোনা ছাড়া ও পোনা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যয় হবে ১০ লাখ টাকা। পুকুরগুলোর সার্বিক কাজ কৃষি প্রকল্পের নিজস্ব অর্থানয়নে সম্পাদক করা হবে। প্রকৌশল দফতর এ সকল কাজের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ জন্য ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ওই সব পুকুরে মাছ ধরা, গবাধিপশু গোসল করানো, কাপড় ধোয়া বা সামগ্রিক পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাত পুকুর গবেষণা প্রকল্পের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া বলেন, সংস্কারের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরগুলো মরে যাচ্ছিল। উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়াতে ও পুকুরগুলো সংরক্ষণ করতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে আশা করছি কাজ শেষ হবে।

জাহাঙ্গীর আলম/রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়