রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। গত ১৩ মে সোমবার ৩০১ সদস্যের বিশাল কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মাত্র দুইজন সাবেক নেতার জায়গা হয়েছে। সহ-সভাপতি পদে খালেদ হাসান নয়ন এবং সহ-সম্পাদক পদে শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম। তবে এ দুজন ছাড়াও বেশ কয়েকজন নেতা পদপ্রত্যাশী ছিলেন। রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে বরাবরের মতো এবারও রাবি ছাত্রলীগ নেতাদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। অন্যদিকে পুর্নাঙ্গ কমিটিতে অধিকাংশ নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। তাই অনেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটি না বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি বলতেও দ্বিধা করছেন না।

রাবি শাখা ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, বরাবরের মতো এবারো রাবি শাখা ছাত্রলীগ বঞ্চিত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে মেধাবীরা রাজনীতিতে আগ্রহ হারাবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই রাবি ছাত্রলীগ স্থানীয় রাজনীতির যে কোন্দল সেখান থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মৌলবাদী ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হয়। অনেক ত্যাগ স্বীকারের পরও বরাবরই কেন্দ্রীয় কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়নহীন থাকছেন তাঁরা। রাবি ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী শিবিরের হামলার শিকার হয়েছেন। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে জীবন যাপন করছেন। এঁদের মধ্যে কাউকেই কোন সন্তোষজনক কোনো পদে মূল্যায়ন করা হয়নি।

রাবির সাবেক একাধিক নেতা বলেন, দেশের অন্য যেকোনো ক্যাম্পাসের তুলনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা অত্যন্ত দুর্বহ। এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে শিবিরের আধিপত্য ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লড়াই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। রাজনীতিতে ‘ঢাকা কেন্দ্রিক’ মনোভাবের ফলে অনেক যোগ্য নেতা থাকা সত্ত্বেও এখানকার কাউকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, যারা পদ পেয়েছেন, তাদেরকে শুভেচ্ছা। কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ যাদেরকে যোগ্য মনে করেছে তাদেরকে পদ দিয়েছে। তবে আমি আশা করবো, যাঁরা কেন্দ্রীয় কমিটি দেওয়ার দায়িত্বে আছেন তাঁরা যদি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অতীত বর্তমান ইতিহাসের দিকে লক্ষ করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাবি ছাত্রলীগকে বিবেচনায় আনে তাহলে অনেক নেতাকর্মী রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়বে না। তাছাড়া এ ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে গিয়ে যেসব নেতা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাঁদের মূল্যায়ন না করার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁরা আর দলের জন্য কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন না।

জাহাঙ্গীর আলম/রাবি