রাবিতে ‘বঙ্গবন্ধু ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শতবর্ষের পথে বঙ্গবন্ধু ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ শীর্ষক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এ আলোচনার আয়োজন করেন সম্প্রীতির বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সম্প্রীতি নিয়ে কাজ করলে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সব কিছুকেই আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব। মানুষ হত্যা, পুড়িয়ে মারার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। যারা রাজাকার, আলবদর, ধর্মান্ধ, ধর্মের নামে রাজনীতি করে, বোমা হামলা করে, বোমা হামলার রাজনীতি করে তারা কখনই সম্প্রীতি চায় না। আমরা সবাইকে একটি সম্প্রীতির মধ্যে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্ম হীনতা নয়। যে যার ধর্ম পালন করবে।’

এসময় বর্তমানে ধর্ম ও ভোটের রাজনীতি চলছে উল্লেখ করে সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে প্রগতিশীল শিক্ষকদের আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সরকারের সাবেক তথ্য সচিব নাসিরউদ্দিন আহমেদ স্বাধীনতার স্থাপতির উপর গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু না হলে হয়ত আমরা আজকের এই সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না। ১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্থান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তখন তিনি বুঝেছিলেন এই দেশ বেশি দিন টিকবে না। তাই তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার বাণী নিয়ে তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই বাংলাদেশ। তিনি এই দেশটিকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়তে চেয়েছিল। সেই লক্ষ্যে সহায়ক ভূমিকা রাখতেই সম্প্রীতি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা।

আলোচনার সভার সভাপত্বি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। এসময় তিনি বলেন, ‘সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, ¯েœহ, মায়া, ভালবাসা এসব গুণাবলি মানুষের মধ্যেই থাকার কথা। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, সেই মানুষের কাজই হলো সৃষ্টির সেবা করা। পৃথিবীতে যখনই বিশৃঙ্খলা ঘটেছে তখনই কোনো না কোনো মহামানবের আবির্ভাব হয়েছিল। বাঙালীদের জন্য তেমনি একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তিনি বুঝেছিলেন তখন বাংলায় সম্প্রীতি নাই, এভাবে চলতে থাকলে বাঙ্গালিরা তীব্র নির্যাতনের শিকার হতেই থাকবে। এমতাবস্থায় তিনি সংগ্রামকে মুক্তির পথ হিসেবে বেছে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাকে স্বাধীন করে দিলেন।’

তিনি আরো বলেন, গত এক হাজার বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর মতো কোনো নেতা বাংলাদেশে জন্মায়নি। যিনি তার পরিবারের কথা না ভেবে জীবনের সব সুখ-শান্তি দেশের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন। যার কারণে তাকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বলা হয়। তার সমতুল্য কোনো নেতা আর বাংলায় আসবে না।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্যদ্বয় অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু, রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুসহ বিভিন্ন বিভাগের দুইশতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মেহজাবিন কথা ও অহনা সিংয়ের যৌথ স ালনায় মতবিনিময় সভার শুরুতেই অতিথিদের ফুলের তোরা দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। এসময় আমন্ত্রিত অতিথি ও দুই শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

এমএ জাহাঙ্গীর/রাবি