বোরহান বিশ্বাস। ছবি : সংগৃহীত

দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচার সংক্রান্ত জটিলতায় এক পর্যায়ে তার ভিসা বাতিল করে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ে ফেরদৌস তার ভুল তুলে ধরে ক্ষমা চেয়ে পত্রিকায় বিবৃতি পাঠিয়েছেন। তিনি বলছেন, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য একটি দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ কোনোভাবেই উচিত হয়নি। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

পত্রিকায় পাঠানো বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, সকলের মতো তারও আগ্রহের জায়গায় ছিল ভারতের এই নির্বাচন। ফলে, ভাবাবেগে তাড়িত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি তার সহকর্মীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। এটা পূর্বপরিকল্পনার কোনো অংশ ছিল না। শুধুমাত্র আবেগের বশবর্তী হয়ে তিনি অংশ নিয়েছেন।

কারও প্রতি বিশেষ আনুগত্য প্রদর্শন বা কোনো বিশেষ দলের প্রচারণার লক্ষ্যে নয়, কারও প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করাও তার উদ্দেশ্য নয়। ভারতের সকল রাজনৈতিক দল এবং নেতার প্রতি তার সম্মান রয়েছে।’ খুবই গোছানো কথা। কিন্তু ফেরদৌসের কি একবারও মনে হয়নি তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে ভারতের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন কিনা? তিনি কি বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন যে, তিনি একজন সেলিব্রেটি। তার দিকে দৃষ্টি থাকবে রাজনৈতিক দলগুলোর।

তার পরও যেখানে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির সাপেনেউলে সম্পর্ক বিরাজমান। যিনি বাংলাদেশের আগামীর সংসদ সদস্য হবেন তাকে তো বিচক্ষণ হতেই হবে। বিশেষত ফেরদৌস যে রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, সে দলটির শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। শিক্ষিত, মার্জিত এবং জনপ্রিয় নায়ক হিসেবেই ফেরদৌসকে বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষ বিবেচনা করেন। আর এ জন্যই হয়তো বড় ওই রাজনৈতিক দল থেকে তাকে সাংসদ করার কথা উঠেছিল। এমন ভুল তার কাছ থেকে কেউ আশা করেননি।

ভারত সরকার ফেরদৌসের ভিসা বাতিলের পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্ত করে তাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এটা তার এবং বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই অপমানজনক। বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের কঠোর আইন সম্পর্কে নিশ্চয়ই তার জানা আছে। ফেরদৌসকে গ্রেপ্তারের কথাও বলেছিলেন কোনো কোনো ভারতীয় রাজনীতিক। আইনত তারা সে কথা বলতেই পারেন। আর সে সুযোগটি ফেরদৌসই করে দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা জেপি মজুমদার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করে বলেছেন, ‘ভারতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো বিদেশি অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস একজন বাংলাদেশিকে ব্যবহার করে নির্বাচনীবিধি ভঙ্গ করেছে। এছাড়া ভিসা সংক্রান্ত আইন না মানায় তাকে (ফেরদৌস) গ্রেপ্তার করা উচিত।’ কিন্তু বন্ধুপ্রতিম ভারত আমাদের সম্মান দেখিয়ে ফেরদৌসকে গ্রেপ্তার না করে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

রাজনীতি খুব সহজ কিছু নয়। সামান্য ভুলে দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস রচিত হয়। ফেরদৌসের আগামীর চলার পথ সুন্দর হোক।

বোরহান বিশ্বাস
সাংবাদিক, ঢাকা।