অ্যামনেস্টি প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, রাখাইনে বেসামরিক মানুষদের আটক করার ক্ষেত্রে অস্পষ্ট ও নিস্পেষণমূলক আইন ব্যবহার করছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। ছবি : সংগৃহীত

মায়ানমারের সামরিক বাহিনী গ্রামে নতুন করে হামলা চালাচ্ছে। বেসামরিক নাগরিকদের খাদ্য ও যেকোনো মানবিক সাহায্য পেতে বাঁধা দিচ্ছে। তাদের কারণে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘর ত্যাগ করেছে।

মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ১১ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাখাইনে চলমান সামরিক অভিযান ও সহিংসতার বিষয়ে নতুন তথ্যপ্রমাণ নিয়ে ‘মিয়ানমার: ফ্রেস এভিডেন্স অব ভায়োলেশনস অ্যামিড অনগোয়িং মিলিটারি অপারেশন ইন রাখাইন স্টেট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর চলমান অভিযানে নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা গ্রামগুলোর ওপর গোলা নিক্ষেপ করছে। বেসামরিক লোকজনকে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা সুবিধা নিতে বাঁধা দিচ্ছে তারা। পূর্বে যেসকল সেনা ইউনিট নৃশংসতা ঘটিয়েছে তাদেরকেই মোতায়েন করা হয়েছে রাখাইনে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে চলমান অভিযানে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৫২০০ মানুষ।

২০১৯ সালের জানুয়ারির শুরুতে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা করে সশস্ত্র আরাকান আর্মি নামের একটি দল। তারপর থেকে নতুন করে এই দমনপীড়নের বিষয়ে অভিযোগ করল অ্যামনেস্টি।

অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স বিষয়ক পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, এর মাধ্যমে  আবার স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কোনো রকম মানবাধিকারের তোয়াক্কা করে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে বসতি আছে এমন গ্রামের ওপর গোলা নিক্ষেপ ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা সমর্থনের অযোগ্য।

জানুয়ারিতে সামরিক ও আরাকান সেনাবাহিনীর মধ্যকার লড়াইয়ে ১৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা মারা গিয়েছেন।

অ্যামনেস্টি বলেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনীর যে ডিভিশনগুলো নৃশংসতায় জড়িত ছিল তাদেরকে সম্প্রতি রাখাইনে ফের মোতায়েন করা হয়েছে।  তিরানা হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতা, প্রমাণ সাপেক্ষে বলে যে, তারা আরো ভয়াবহভাবে অধিকতর জোরালোভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছে।

অ্যামনেস্টি প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, রাখাইনে বেসামরিক মানুষদের আটক করার ক্ষেত্রে অস্পষ্ট ও নিস্পেষণমূলক আইন ব্যবহার করছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। আর এসব ঘটছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্ট হওয়ার পরও। ওই রিপোর্টে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও বিচারের আহ্বান জানানো হয়। মিয়ানমারের ওইসব কর্মকর্তা রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, কাচিন ও উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যে জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন চালিয়েছে।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন অনুসারে আরাকান আর্মি মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই জোরালো করেছে। সম্প্রতি তারা চীন ও রাখাইন রাজ্য থেকে দৃষ্টি তুলে নিয়েছে। এসব সংঘাতের মূল বিন্দু তাদের নিরাপত্তা রক্ষী।