ইউএনও জসীম উদ্দিন।

হবিগঞ্জের বাহুবলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর দ্বারা উপজেলা প্রকৌশলীকে মোবাইল কোর্ট এর নামে হ্যান্ডকাপ পরানোর ঘটনায় এখনো তোলপাড় চলছে।

এ ব্যাপারে আগামী ৬ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

এদিকে এ ঘটনার পর ১০ মার্চ প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন ও তার অফিস সহকারী হরিপদ দাসের নাম উল্লেখ সহ আরো ২/৩ জনকে আসামী করে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। অপর দিকে এঘটনা নিয়ে বাহুবল, হবিগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের শাস্তির দাবীতে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। বাহুবলে ইউএনও‘র হাতে গড়া সামাজিক সংগঠন “আমরা সবুজ সংঘ” উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ঘুষখোর-মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়। এতে বাহুবলের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

সূত্র জানায়, প্রথমদিকে বিষয়টি সমঝোতায় মিমাংসা করতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উদ্যোগ নেন। কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় ঘটনার তদন্তে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব- মোঃ সাবেরুল ইসলামকে প্রধান করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি অন্যান্যরা হলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিব- মোঃ ইমদাদুল ইসলাম ও জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব-মোঃ মনিরুল ইসলাম।

উক্ত তদন্ত কমিটি গত ১৬ মার্চ সকালে আলোচিত অলুয়া বাধঁ পরিদর্শন করেন এবং বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান অফিসে এসে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহন করেন।

এসময় ইউএনও‘র নিজস্ব সংগঠন ‘আমরা সবুজ সংঘ’র উল্লেখযোগ্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত কমিটি ১৯ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে কিনা সূত্র বলতে পারেননি। এছাড়া ১৯ মার্চ থেকে ৩ দিনের ছুটি নিয়ে ইউএনও মোঃ জসিম উদ্দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

ঘটনার নেপথ্যে জানা গেছে , ইউএনও অফিসের সহকারী হরিপদ দাস, পিআইও আশিষ কর্মকার ও উপজেলা চেয়ারম্যান অফিসের সহকারী কনক দেব মিটুসহ কয়েক কর্মচারী উপজেলার বিভিন্ন সরকারী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর অলুয়া বাধঁ নিয়ে ছয়-নয় এবং উপযুক্ত কাগজপত্র না থাকায় উপজেলা প্রকৌশলী দুই লাখ টাকার বিলে সই করেননি। এতে ৬ মার্চ ইউএনও অফিসের সহকারী হরিপদ দাসের সাথে উপজেলা প্রকৌশলীর গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাক-বিতন্ডা হয়।

এর কিছুক্ষণ পরই ওইদিন ই্উএনও মোঃ জসিম উদ্দিন মোবাইল কোর্ট করার নামে পুলিশ ডেকে এনে প্রকৌশলীর হাতে হ্যান্ডকাপ পরান। সাথে সাথে বিষয়টি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষনিক অনলাইন পোর্টালে ভাইরাল হয়। এমনকি ইলেক্ট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায়ও তা প্রকাশ হয়।