সুদীপ্ত শাহীন। ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিনের বিরুদ্ধে কর্মচারী, রিক্সাচালক, সংবাদ উপস্থাপিকা উত্যক্তকরণ ও বহিরাগত মারধরের একাধিক অভিযোগ থাকলেও এ পর্যন্ত তদন্ত সাপেক্ষে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২২ জানুয়ারি ২০১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি মো. শরিফ মিয়াকে (তখন তিনি সভাপতি প্রার্থী) মারধরের বিচার চাইলে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উক্ত ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও বিষয়টি দীর্ঘসূত্রিতার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং তাকে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে। অপর দিকে কর্মচারী ক্লাবের পিয়ন বেলায়েত হোসেন বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার পূর্বেই তাকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীঘসূত্রিতা থেকে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদিপ্ত শাহীনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের বিষয়টি সত্য। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী শিগগিরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তবে তদন্ত চলাকালীন এক কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিলেও সুদীপ্ত শাহীনকে অব্যাহতি না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কথা বরতে রাজি হননি। এবিষয়ে কথা বলকে পরবর্তীতে দেখা করার জন্য বলেন।

নিরাপত্তা কর্মকর্তার লাগামহীর আচরণ ও বিচার কার্যে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে সুষ্পষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে। মৌখিক অভিযোগ না করে কেউ লিখিতভাবে জানালে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এছাড়া পূর্বের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মাদক গ্রহণ, কর্মচারী মারধর, রিক্সাচালক মারধর সহ একাধিক অভিযোগ তাকলেও ক্যাম্পাসে সুদীপ্ত শাহীন লাগামহীন আচরণ করছেন বলেও জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও কর্তা ব্যক্তিদের সাথে সুসম্পর্কের জোরে সে অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ না করতে কর্মচারীদের হুমকী দেন বলেও জানা যায়।

মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ইমন মাহমুদ/জাবি