চট্টগ্রাম টেষ্ট

চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে ২০৫ রানে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ। রশিদ খান নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। গত দিনে অপরাজিত থাকা মোসাদ্দেক হোসেন (৪৪) আর তাইজুল ইসলাম (১৪) শুরু করেন তৃতীয় দিন। দিনের প্রথম ওভারেই তাইজুলকে আউট করেন মোহাম্মদ নবী।

এরপর নাইম হাসানকে (৭) এলবিডাবলিউয়ের ফাঁদে ফেলেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। মোসাদ্দেক হোসেন ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। আফগানিস্তান এগিয়ে আছে ১৩৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং নামবে আফগানরা।

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। তাইজুল আর সাকিবের জোড়া আঘাতে এদিন মাত্র ৭১ রান যোগ করেই ৩৪২ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারী আফগানিস্তান। তবে চট্টলার উইকেট যে চোখ রাঙাবে খোদ স্বাগতিকদের তা হয়তো কেউই বুঝতেই পারেনি। তবে তাতে কি ঠিক চট্টলার উইকেটকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় দিনটাও নিজেদের করে নিয়েছে টেস্টে সদ্য অভিষেক হওয়া আফগানরা। ৬৭ ওভারে ১৯৪ রান তোলার পর অস্বস্তিতে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।

এ যেন খাল কেটে কুমির আনা সেই বাগধারার বাস্তব প্রমাণ দেখাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানের ৩৪২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই ফিরে গেলেন টাইগার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানে সাদমান ইসলাম। আফগান দলের একমাত্র পেসার ইয়ামিন আহমেদজাই ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই পরাস্ত করলেন সাদমানকে।

আর এরপর সে তো এক লঙ্কা কাণ্ড ঘটে গেল সাগরিকায়। মোহাম্মদ নবী আর রশিদ খানের ঘূর্ণির কাছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেন কাঁপছিল থরথরিয়ে। যে ঘূর্ণিতে আফগানদের বধ করার ছক কষেছিল, সেই ঘূর্ণিতে নিজেরাই কুপোকাত।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সৌম্য সরকারকে সাথে নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়েন লিটন দাস। টাইগার সমর্থকরা তখনও স্বপ্ন দেখছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিবে স্বাগতিকরাই। তবে আফগানদের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর চিন্তা ছিল ভিন্ন। আর তাই তো উইকেটে সেট হওয়া সৌম্যকে এলবিডাবলিউয়ের ফাঁদে ফেললেন এই অফস্পিনার। উইকেটে থিতু হওয়া সৌম্য তখন ৬৬ বলে ১৭ রান করে ফিরে গেলেন প্যাভিলিয়নের দিকে।

এরপর যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল টাইগারদের ব্যাটিং লাইন আপ। সৌম্যর মতো উইকেটে থিতু হয়ে ফিরে গেলেন লিটন দাসও। রশিদ খানের প্রথম শিকার ইনিংসে তার প্রথম ওভারেই। আউট হওয়ার আগে ৬৫ বল খেলা লিটন যেন পড়তেই পারলেন না রশিদের বল। ভেবেছিলেন বলটি ওপরে আসবে কিন্তু ডাউন করা বলটি গিয়ে সোজা আঘাত করল স্ট্যাম্পে। ৫৪ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান বিদায় জানিয়ে ফিরে গেলে ড্রেসিং রুমে।

এরপর যেন ব্যাটসম্যানদের ড্রেসিং রুমে ফিরে যাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হলো। ৫৪ রানে লিটন আউট হলে উইকেটে আসেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আর উইকেটের অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মুমিনুল ভাবলেন এবার হয়তো বড় একটি জুটি গড়তে পারবেন। কিন্তু কোথায় কি? আবারও রশিদ খান বাধা হয়ে দাঁড়াল টাইগারদের সামনে। ১১ রান করা সাকিবকে ফেরালেন এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে। একই ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই ফেরালেন মুশফিকুর রহিমকেও। বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে তখন রান সংখ্যা ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮৮ রান।

টাইগারদের তখন চোখ রাঙাচ্ছিল ফলোঅন। চট্টগ্রামের টেস্ট দিয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেছে আফগানরা আর তাদের কাছেই কিনা ফলোঅনের লজ্জায় পড়তে হবে? উইকেটে তখন মুমিনুল আর মাহমুদুল্লাহ, বেশ সাবধানী সূচনাও করেছিলেন। জুটি গড়ার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিলেন কিন্তু আবারও সেই রশিদ। টাইগারদের দলীয় ১০৪ রানে আর মাহমুদুল্লাহর ব্যক্তিগত ৭ রানে রশিদের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেন আগের পাঁচ ব্যাটসম্যানের কাছে।

তবে এক প্রান্ত ঠিকই আগলে রেখেছিলেন মুমিনুল। চট্টগ্রামের মাটিতে খেলা টেস্টে এর আগে যে ক’বার পঞ্চাশ করেছিলেন সবগুলোকেই পরিণত করেছিলেন শতকে। তবে এবার আর পারলেন না ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। পরাস্ত হলেন মোহাম্মদ নবীর কাছে। ৫২ রান করে আসগর আফগানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান এই ব্যাটসম্যান। ১৩০ রানে ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশ তখনও শঙ্কায় ফলোঅনের।

তবে শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেক হোসেন আর মেহেদী হাসান মিরাজ ফলোঅন এড়িয়েছিলেন। দলীয় ১৪৬ রানে মিরাজ (১১) আউট হন কায়েসের বলে। তখনও আফগানদের থেকে টাইগাররা পিছিয়ে ১৯৬ রানে। এরপর দলের হাল ধরেন মোসাদ্দেক আর তাইজুল ইসলাম। দুইজন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন, আর সফলও হয়েছিল দুইজন। টাইগারদের প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ রানের জুটিও এসেছে এই দুইজনের কাছ থেকেই। মিরাজের আউট হওয়ার পর তাইজুল আর মোসাদ্দেক মিলে গড়েছেন ৪৮ রানের জুটি। আর শেষ দিকে তাই ম্যাচের কিছুটা নিয়ন্ত্রণে টাইগাররা।