ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলা রকের বয়স কত? পৃথিবীর প্রেক্ষিতে আজকে তার কী হাল? আধুনিক গান থেকে রক কেন আলাদা আজও? এমন বহু প্রশ্ন ঘুরপাক খায় মাথায়। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি স্কুল কেন্দ্রিক বাংলাদেশে রকের কিছু প্রস্তুতি পর্বের ইতিহাস পাওয়া যায় কিছু সাক্ষাৎকার যার মূল সোর্স।

ফজলে রব, আলমগীর হক, সুফি রশিদ, রফিক মাযহার ইসলাম সাজু, নবাব পরিবারের সদস্য খাঁজা সাব্বির কাদের এরাই ছিলেন সেই পর্বের রকত্রাতা। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম বাংলা রক ব্যান্ড আইওলাইটস এর জন্ম। সেই সময়ের কোনো গান আজ আর টিকে নেই থাকলেও তাঁর খোঁজ জানেন কোনো নৃতাত্ত্বিক। বাংলা রকের ঐতিহাসিক পর্বে কোনো ঐতিহাসিক গান আমরা পাই না যা জনশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে। ফলে সেই প্রস্তুতি পর্ব মূলত নিজেদের ধাতস্ত করার কাল।

উচ্চারণ ব্যান্ডের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার (১৯৭১-৭২) পর বা আজম খান এবং তাঁর ব্যান্ড উচ্চারণের নেতৃত্বে যে রক আমাদের দেশে যাত্রা শুরু করলো কেবল সেখানেই দেখা গেলো স্থানিক বিষয়াদি তাঁদের লিরিকে উঠে আসছে। রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেওয়া কতিপয় রাগী তরুণ কলকাতা-কেন্দ্রিক গানের শ্রোতাদের যেন ঘা মেরে জাগিয়ে দিলেন। প্রশ্নই ওঠে না সেই পর্বেই তারা স্বীকৃতি পেয়েছিল কিনা, তবে যারা বাংলা গানে নিজেদের কথা ও সুরের সন্ধান করছিলেন মনে মনে তাঁরা যেন তাঁদের মনের খোরাক খুঁজে পেলেন এতোদিনে। নাগরিক দেখার মধ্যেও একটা লোকায়ত আর নিম্নবর্গের কথা উঠে আসল ‘উচ্চারণের’ গানে। ‘রেল লাইনের ওই বস্তিতে জন্মেছিল একটি ছেলে’ বা ওরে সালেকা ওরে মালেকা’ অথবা ‘আলালে দুলাল’। এসব গানে যে শহর জনপদ বা জনগোষ্ঠীর কথা উঠে এসেছে, তা একই সাথে প্রান্তিক আর নিম্ববর্গীয় তার ভাষা সহজ আর অকপট। আঙ্গিকের দিক থেকে তা মৌলিক নয় বরং পপ ঘরানার সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

মহীনের ঘোড়াগুলির সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে এরও বহুকাল পর পশ্চিমবঙ্গে মহীনের ঘোড়াগুলির (১৯৭৫) উত্থান। কলকাতার বাংলা রক ব্যান্ডগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতেই রাখতে চাই এদের এই কারণে যে তাদের সঙ্গে হাংরি জেনারেশনের কবি এবং শিল্পীদের যোগ ছিল, ফলে একটা সোশিও পলিটিক্যাল ক্রিটিসিজম উঠে আসে তাঁদের গানে। পিউর পাশ্চাত্য ধারার গানে তারা ময়মনসিংহ গীতিকা, ভবা পাগলা, জীবনানন্দ দাশ, আদিবাসীদের লোকশ্রুত গান, লোকগান ইত্যাদি বিষয়কে তারা তাদের গানে তুলে আনেন সফলভাবে। তাঁরা জনপ্রিয়তা পাননি। ঘোড়ার ‘আস্তাবল’ গালি শুনেছেন। কিন্তু দমে না গিয়ে সেই ‘আস্তাবলই’ হয়ে উঠেছে ঘোড়ার ক্ষিপ্র গতি। প্রশ্ন উঠতে পারে আদতেই এঁরা রক জনরার গান করতেন কিনা। পশ্চিমা এনার্কি থেকে যে সাংগীতিক ভাবধারার জন্ম সেই ধারাকে তারাই সফলভাবে নিজেদের ধারার সংগে যুক্ত করতে পেরেছিলেন এটুকু আজ সর্বজনবিদিত। যদিও নাগরিকবোধ বা যাপন তখনও এই অঞ্চলের শিল্প সাহিত্যে উঠে আসেনি তেমন একটা। কেবল সূচনা বলা চলে। দুই বাংলায় দুই দিকপাল গৌতম চট্টোপাধ্যায় আর আজম খানকে আমরা তখন দেখছি বাংলা রকের নেতৃত্ব দিতে। যদিও দুজনের দুই স্বভাব। তবে আজম খানের নেতৃত্ব যতটা সহজে আমাদের পরবর্তী ব্যান্ড শিল্পীরা নমস্য ভঙ্গিতে দেখেছেন, মহীনের ঘোড়াগুলির ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি। কবীর সুমন বা অঞ্জন দত্তের মতো শিল্পীদের কাছে তারা কখনো বাংলা রকের পায়োনিয়ার নয়। বরং তারা একটা খণ্ডিত ‘ব্যর্থ প্রচেষ্টা’ মাত্র।

রকের ইতিহাস যেমনই হোক সিক্সটিজে যে রকে সমাজটাকে আগাপাশতলা ক্রিটিক করা হচ্ছিল, তা কিন্তু থেমে যায় এক বা দুই দশক পরই। কেন থেমে যায়? এসব গান বড় পুঁজির সংস্পর্শে আসার পর তার চরিত্র হারাতে থাকে, যা আমাদের দেশেও লক্ষণীয়। উন্মাতাল তারুণ্যের হই হল্লায় পর্যবসিত হয় বাংলা রক। যেখানে সমাজের অসংগতি বা কোনো দ্রোহ থাকে না। রাশিয়া ভেঙে যাওয়ার পর সমাজতন্ত্রীদের আশা ভঙ্গ হয়েছিল নানাভাবেই। যার প্রভাব পড়েছিল গোটা দুনিয়াজুড়েই। বব ডিলানের, লেনন বা পিট সিগারের গানের যে দ্রোহ বা সমাজবাদীতা তা দিনে দিনে প্রভাব হারাতে শুরু করল। রক তখনো একটা লাইফ স্টাইল থাকল বটে, তবে তা হয়ে উঠল আঙ্গিকসর্বস্ব। চেগুয়েভারার মতো মার্চেডাইজে পরিণত হলো রক ইমজে।

ছবি: সংগৃহীত

অপরদিকে একটা এঙরি এপ্রোচ গানের ভেতর জারি থাকল কিন্তু তাতে বলবার তেমন কিছু থাকল না। স্পন্সর আর লগ্নিকারীদের কারণে সমাজ বদলাবার বা এনার্কি তার তেজ হারিয়ে ফেলল। বাংলাদেশে এইটিজে আমরা দেখি ফিলিংস, এলআরবি, ফিডব্যাক, ওয়ারফেজ’র মতো ব্যান্ড ঝলমল করছে। তখন রকের বাজার সংগীতা, জি সিরিজের দখলে। তখনো তরুণরা স্বপ্ন দেখছে বাংলা রক নিয়ে। নিজেদের কথা, নিজেদের সুরের সন্ধান করছে। অপর দিকে একটা গ্রুপ যারা মূলত ‘বাংলা সংস্কৃতির ধ্বজাধারী’ বলে নিজেদের দাবি করেন, তারা এই রক গানকে অপসংস্কৃতি বলতে শুরু করেন। এমনকি বিপ্লবী রাজনীতির লোকেরাও একই সুরে কথা বলতে থাকেন। তারা এগুলোকে ‘বুর্জোয়া গান’ বলে আখ্যা দেন। ‘অপসংস্কৃতি’ আর ‘বুর্জোয়া গান’ এই দুই শব্দবন্ধ বাংলা মুলুকে ‘রক’কে সমাজ ছাড়া করে রেখেছে। তাই বলে রক গানের জনপ্রিয়তা কোনো অংশে কমেনি। এদেশে তরুণরা ক্ষ্যাপার মতো রক গানে মত্ত হয় ১৯৮০ থেকে ৯০ সালের সময়টাতে এবং ওই সময়টাতে বড় পুঁজি ঢুকতে থাকে ব্যান্ড মিউজিকে। কোকের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোতো আছেই, সাথে টেলিকমগুলো এসে রকের তারুণ্য মাতানো ইমেজকে ব্যবহার করতে থাকে তাদের ব্র্যান্ডিংয়ে। তারা তারুণ্য আর রককে একই মেজাজে ব্র্যান্ডিং করলো, সঙ্গে জাতীয়তাবাদী স্লোগান। তারা তারুণ্যকে ‘হারিয়ে যাও’ টাইপ স্লোগানে মত্ত করে রাখলো। যদিও এই ‘হারিয়ে যাওয়ার’ অর্ন্তগত অর্থ আমাদের আজও অজানাই রয়ে গেল।

তো সেই পুঁজি আমাদের রককে নতুন আরেক দিকে ধাবিত করলো। এখানে আরেকটি ধারার জন্ম নিলো, যাকে আমরা আদর করে বলতে লাগলাম ‘ফিউশন’। এই রহস্যময় ফিউশন আমাদের বাংলা রককেও কনফিউজড করে দিলো। এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, এই ফিউশন যুগে আমরা যে সমস্ত লালনের গান, হাসন রাজার গান আবদুর রহমান বয়াতীর গান বা শাহ আবদুল করিমের গান নতুনভাবে শুনেছি। একজন শ্রোতা হিসেবে আমার মনে হয়েছে, সেইসব ফিউশন ভার্সনের মৃত্যু হয়েছে। মানুষ আর আর সেইসব ফিউশন ভার্সন শুনছে না। তারা দিন শেষে একজন বাউলের কাছে বা একজন সাধকের কণ্ঠেই তা শুনতে বেশি আগ্রহী। এরপর তো অডিওবাজারের ট্রানজিশন শুরু হয়ে গেছে সারা দুনিয়াজুড়েই। সেই ফিউশনের এখন আরও নানা রকমের ডালপালা গজিয়ে ‘ইন্ডিতে’ গিয়ে ঠেকেছে।

ছবি: সংগৃহীত

প্রসংগত উল্লেখ্য যে সেই সময়ে গ্রুপ থিয়েটার মুভমেন্ট, লিটল ম্যাগাজিন মুভমেন্ট, চলচ্চিত্রকর্মীরা সিনেমার ভেতর দিয়ে একটা সমাজকে পাল্টে দেবার স্বপ্ন দেখছেন, নাটক ও লেখালেখির মাধ্যমে একটা আদর্শিক জায়গা থেকে লড়াই করে যাচ্ছিল অনেকেই। এই যে একই সময়ে প্যারালালি একটা রিবেলিয়াস চিন্তা অন্যরাও করছিল, বাংলা রকাররা তা রেকগনাইজ করেননি তাঁদের গানে। তাতে তারা অংশগ্রহণ করেননি। কেবল নিজেদের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছেন। চিন্তার ক্ষেত্রে কোনো ঐক্য খুুঁজে পাওয়া যায়নি এসব ভিন্ন জনরাগুলোর মধ্যে, যা বাংলা রকের রাজনীতিকে অস্পষ্ট করে তুলেছে। দিনে দিনে বাংলা ব্যান্ড তাঁদের গানে এক ধরনের পশ্চিমা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, বিচ্ছিন্নতা, মরবিডনেস, সো কল্ড এনার্কি ইত্যাদি ইমজের মধ্যে বন্দী হতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ড্রাগ। পশ্চিমা আন্ডারগ্রাউন্ড গ্রুপগুলোর দার্শনিক একটি দিক হচ্ছে যে ব্যক্তি নিজের শরীরের পতনের ভিতর দিয়ে সমাজকে অস্বীকার করে থাকে। হয়তো সেই ধারার ভেতর দিয়ে মাদক সেখানকার তরুণ সমাজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাছাড়া ব্যক্তিক হতাশাবোধ তো আছেই। সেই রেশ আমাদের এখানে এসে পড়ে। রকার নয় শুধু, সমাজকে অন্যভাবে দেখতে চাওয়া তরুণ সমাজ যেন মাদকের মাধ্যমে ক্রমনাশবাদী হয়ে উঠে।

নব্বই পরবর্তী বাংলা রক মূলত কথা ও সুরের মিস্টি মধুর গাঁথুনি মাত্র। কোনো কমিটমেন্ট বা এংগার নেই এই পর্বের গানে। কলাকৈবল্যবাদীদের মতো শ্রোতাদের মনরঞ্জনই মুখ্য হয়ে উঠল এই পর্বে। আর ক্রমশ দূরত্ব বাড়তে থাকলো নিজস্ব রীতি বা সাংগীতিক ঐতিহ্য থেকে। এক ধরনের ফাঁপা আন্তর্জাতিকতাবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠল গানে। নব্বই পরবর্তী বাংলা ব্যান্ডগুলোতে যে এংগার আমরা দেখতে পাই, তা আঙ্গিকসর্বস্ব, আমদানিকৃত। বাংলা ব্যান্ড প্রকৃত অর্থেই বুর্জোয়া হয়ে উঠল এই পর্বে। ব্যক্তিক নিঃসঙ্গতা, আমিত্বের জয়গান, প্রেম ও কামনা নির্ভর গান এই সময়ের বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠল। এই সময়টাতে বাংলাদেশে প্রাইভেট টেলিভিশন মাধ্যমের বিকাশ ঘটল। যার ফলশ্রুতিতে কেবল কনসার্ট কেন্দ্রিক নয়, বাংলা ব্যান্ড তখন টিভি মালিকদের ব্যক্তিগত স্টুডিওতে গিয়ে ঢুকল। যেই রকের বৈশিষ্ট্য ছিল প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা, সেই রকই হয়ে উঠল প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক, ফলে বলবার অবশিষ্ট কিছুই থাকল না। তখন বাংলা ব্যান্ডে ‘এঙ্গার’ হয়ে উঠল ‘বিউটিফুল’ আর ‘সুদিং’।

ফকির লালন সাঁই। ছবি: সংগৃহীত

প্রসঙ্গত বাংলা গানে ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা’ বা সমাজকে ক্রিটিক করা বা বিপ্লবী কথার নজির আমরা বরং বাউল গানের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি দেখতে পাই। ধর্ম থেকে শুরু করে মানুষের সমগ্র জীবন ব্যবস্থা নিয়েই তাঁদের নানা মতো গানে উঠে এসেছে। সেই দিক বিচারে বাংলা রক বা আধুনিক গানে যে বিপ্লবীপনার কথা আমরা জানি, তা আসলে বাউলদের কখনো ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। বরং এখনো পর্যন্ত বাউলরাই মাল্টি-ন্যাশনাল কম্পানির কব্জাগত না হওয়ায় তারা তাঁদের সাধন ভজন জারি রাখতে পারছে। তাদের গানে তা চর্চাও করতে পারছে। নাস্তিকতাবাদ থেকে শুরু করে অজ্ঞেয়বাদ বা ধর্ম বিশ্বাসের মতো বিষয়গুলো নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গান রচনা করে থাকেন বাউল কবিয়ালরা। কিন্তু সেই অর্থে তা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠান বিরোধী তকমা পায় না। কেন পায় না? এটা একটা গভীর ভাবনার বিষয়।

আবহমান বাংলার যে বাউল দর্শনের কথা আমরা জানি, যে লোকায়ত ভাবনার কথা আমরা জানি, তাতে এমন অসংখ্য কথা পাই যা সরাসরি সমাজের অসঙ্গতির কথাই নির্দেশ করে। ‘সুন্নত দিলে হয় মুসলমান নারীর তবে কি হয় বিধান, ব্রাম্মণ চিনি পৈতে প্রমাণ বামনী চিনি কি প্রকারে সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।’ লালনের এই বাণীই বলে দিচ্ছে রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্মকে কত না স্পষ্টতার সাথে তিনি ক্রিটিক করেছেন। যা আজও ধনী, গরীব, শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে মানুষ শুনছে, গাইছে। বাংলা গানে এই স্পর্ধা বাউলদের কথার মধ্যেই কেবল ঘুরপাক খেয়েছে। রকের মতো প্রতিষ্ঠান বিরোধী জনরার গানে এমন বাণী হয়তো আমরা প্রত্যাশা করে আসছি কেবল। যা হয়তো খুব প্রাসঙ্গিকও ছিল।

ছবি: সংগৃহীত

বাংলার বাউল দর্শন আর রক এই দুই ধারা এক জায়গায় এসে মিশেনি কখনো। মেশার চেষ্টাও আমরা দেখি না। বরং এক প্রকারের আধাত্মবাদের কচকচানি লক্ষ করি। যেখানে একই গান জনে জনে গাইছে প্রায় একই কম্পোজিশনে। নতুন কোনো ইন্টারপিটেশনও আমরা দেখি না। রকের স্পিরিট যদি বাউলের মর্মকথার সাথে মিশতো, তবে নতুন বাংলা গান আরেকটা নতুন রাস্তা দেখাতো আমাদের, যার কিছুটা ইশারা পাই মহীনের ঘোড়াগুলিতে, কিছুটা মাকসুদের ‘বাউলিয়ানা’ বা নগলবাউলের ‘নগর-দর্শনে’।

রক-ভজন আর বাউল-ভজন বা দেহতাত্ত্বিক মর্মবাণী কিংবা সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গী এসবের তুলনা করার মানে এই নয় তাদের মুখোমুখি করে একটা গোলমাল বাঁধিয়ে দেওয়া। বরং একটা ঐক্য খুঁজে দেখার চেষ্টা। রকের যে সুর সেই সুর তার সময়কে সময়ের ডেস্টর্শনকে তুলে আনে গানে। একটা প্রতিবাদী চিৎকার। একটা তীব্র প্রতিরোধী ভঙ্গি এই গানের স্বভাব। একই সাথে সে প্রবলতর প্রেমিক। সে যেন তারায় তারায় রটিয়ে দেওয়া ভবঘুরে প্রেমিক। যে দ্রোহ থেকে রক হয়ে ওঠে প্রেম ও প্রতিরোধের ইশতেহার সেই দ্রোহই রকের সত্যকার স্বভাব। ঐক্যের দিক থেকে যদি বলি বাংলার বাউল ফকিরের গানে আমরা যেন সেই দ্রোহ আর প্রেম যুগপৎ খুঁজে পাই। যেখানে খোদাকে ভালোবেসে তাঁর সৃষ্টির মহিমা কীর্তন একই সাথে সর্বপ্রাণের প্রতি অপার মমতাবোধের কথা পাই এই ফকিরি গানে। তারাও তাদের দেহাতি সুরে নিজের কথাটা ঠিকই গানে গানে বলে যাচ্ছেন আবহমানকাল ধরে।

লেখক: শিবু কুমার শীল