এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

রক্তাক্ত রাবি শিক্ষার্থী : প্রক্টরের উদাসীনতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তার মাথায় আঘাত করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনায় দুর্বৃত্তদের আটকের দাবিতে শুক্রবার রাত পৌনে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বলেন, ‘বিক্ষোভ হচ্ছে, দাবি জানাচ্ছে। দাবি মানবো তবে যতটুকু পারি’। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর এ ঘটনাকে বরাবরের মতোই তুচ্ছ করে দেখছেন।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে, দ্বিতীয়ত ১২ ঘন্টার মধ্যে আসামি ধরতে হবে, তৃতীয়ত ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, চতুর্থত বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, খুব দ্রুত আমরা বিচার চাই। নাহয় আন্দোলন বেগতিক হবে। আমরা জানি প্রশাসন চাইলে আসামি ধরা সম্ভব। কিন্তু প্রশাসন প্রতিবারই দায় এড়িয়ে যায়। এবার আর সে সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা বিচার নিয়েই ফিরবো।

জানা গেছে, মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম ফিরোজ। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেয়া হয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের ওটিতে নেওয়া হয়েছে। মাথায় সেলাই দেওয়া হচ্ছে। আহত ফিরোজের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

রক্তাক্ত রাবি শিক্ষার্থী

অর্থনীতি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ফিরোজ তার বান্ধবিকে হলে এগিয়ে দিতে যাচ্ছিল। এমন সময় তাদেরকে হবিবুর রহমান হলের যে রাস্তা দিয়ে হলে এগিয়ে দিতে গেলে মোটর সাইকেলে করে এসে তাদের মাঠে নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে মোবাইল বা টাকা পয়সা দাবি করে। কিন্তু টাকা দিতে না পারলে তখন তার মাথায় আঘাত করা হয়।

হাসপাতলে ফিরোজের সঙ্গে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এস এম মোখলেসুর রহমান মিলন ভুক্তভোগীর বান্ধবীর বরাত দিয়ে বলেন, “ফিরোজ ও তার বান্ধবী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে একটি কম্পিউটার দোকানে কাজ করে ফিরছিলো। তখন মোটরসাইকেলে দুজন এসে তাদের পথ আটকে দাঁড়িয়ে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ফিরোজ মোবাইল দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছিনতাইকারীরা তাকে হাতুড়ি জাতীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে একপর্যায়ে মোবাইল ফেলে রেখে ছিনতাইকারীরা চলে যায়।”

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বহিরাগত না বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এটা এখনও জানা যায়নি। তবে তারা ছিনতাই করতে আসেনি। ছিনতাই করলে তারা টাকা পয়সা কেড়ে নিতো। কিন্তু সেটাও করেনি। মাথায় আঘাত করেছে। তবে কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি কোনো ধরনের প্রমাণ পায় তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, এখানে এরা বিক্ষোভ করছে। দাবি জানাতেই পারে খুব স্বাভাবিক। আমরা দাবি মানবো তবে যতটা পারি। আকাশের চাঁদ চাইলে তো এনে দেওয়া সম্ভব না।

এমএ জাহাঙ্গীর/রাবি