বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি

রংপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রবিবার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধিতে গঙ্গাচড়ায় আলমবিদিতর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা দূর্গতের জন্য যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে সামান্য বলছে জনপ্রতিনিধিরা।

উজানের ঢলে তিস্তার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত শুক্রবার গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডোহরা, কচুয়া, বৈরাতি, আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি, কালুভদ্র পাইকান, ব্যাংকপাড়া, সাউথপাড়া, লহ্মীটারী ইউনিয়নের চর শংকরদহ, পুরাতন চর শংকরদহ, চল্লিশসাল, জয়রামওঝা, চর ইচলী, কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনার চর, কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর, পীরগাছা উপজেলার ছাওলা এবং তাম্বুলপুর গ্রামে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যাদূর্গতরা উঁচুস্থানে, বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার কারণে তিন উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। ফলে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার ও চাল বিতরন করা হয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার লহ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হাদী বলেন, গত শনিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ টন চাল ও ৮’শ প্যাকেট শুকনা খাবার পাওয়া গেছে। যা চাহিদার তুলনায় একেবারে সামান্য। ইতোমধ্যে ত্রাণগুলো বন্যাদূর্গতের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। আমার ইউনিয়নে চাহিদা ছিল ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার। মেডিকেল টিম গত শনিবার থেকে কাজ করছে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ডায়রিয়ার ওষুধ বিতরণ করেছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, গত শুক্রবার তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে ৫৩ দশমিক ১০ সেন্টিমিন্টার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা পানি প্রবাহের মাত্রার সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে তিস্তায় পানি কিছুটা কমেছে, রোববার বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোস্তফা খালেদ আহমদ বলেন, রংপুর বিভাগের বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর জন্য ৬৭২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। যারা ইতোমধ্যে গুরুত্ব বুঝে বন্যাকবলিত এলাকার মানূষজনকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, সাপে কাটা রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসাগুলো বেশি দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে এই টিমগুলো রোগীদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ডও করছেন।

এহসানুল হক সুমন/রংপুর