জাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক : ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্য ড.ফারজানা ইসলামকে যে কোন সময় অবরুদ্ধ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ।

২ নভেম্বর (শনিবার) বিকাল সাড়ে তিনটায় পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর” শিরোনামে আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ।

বেশ কিছুদিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের একাংশ । বর্তমানে তারা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন । ধর্মঘট চলাকালীন সময়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহকারী প্রক্টর মহিবুর রউফ শৈবালের উপর হামলার অভিযোগকে সম্পূর্ণ নাটক বলে অভিহিত হয়।

এ সময় একজন বলেন “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সন্ত্রাস লালন করে এবং আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্যে বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা, মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে । বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটে যাওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নামমাত্র পদক্ষেপ নিয়েছে বা নিরব ছিলই বলা চলে । তাদের নৈতিক স্খলন ঘটেছে। দুর্নীতিবাজ ভিসি পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাব।”

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় একনেক। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য এ বছরের ১ মে ৬টি হলের দরপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। কাজের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দরপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে।

এরপর ছাত্রলীগকে ‘ঈদ সেলামির’ নামে দুই কোটি টাকা চাঁদা দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তিন দফা দাবিতে গত ২৩ আগস্ট থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

কয়েকদিন আন্দোলন চলার পরে গত ১২ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই আলোচনায় আন্দোলনকারীদের দুটি দাবি মেনে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ১৮ সেপ্টেম্বর ফের আলোচনায় প্রকল্পের টাকা নিয়ে দুর্নীতির তদন্তের দাবি না মানায় ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

আরিফুল ইসলাম শাকিল/জাবি