৯ দলের অধিনায়কদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন মাশরাফি মুর্তজা। ছবি : রয়টার্স

সেন্ট্রাল লন্ডনের দা ফিল্ম শেড মঞ্চে বেজে উঠল বিশ্বকাপ ক্রিকেট নাটকীয়তার আগমণী সুর। লন্ডনের ফিল্ম শেড মঞ্চে পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপের ১০ অধিনায়ক। হাসি, আড্ডা, মজা, খুনসুটি, কথায় অধিনায়কেরা শোনালেন তাদের বিশ্বকাপ ভাবনা। ২৩ মে বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় ছিল আয়োজন শুরুর নির্ধারিত সময়।

শুরু হয়ে গেল ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক পথচলাও। সুসজ্জিত মঞ্চে ১০ দলের খেলার ছোট্ট ভিডিও দিয়ে শুরু হলো আয়োজন। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে স্থানীয় বিভিন্ন ক্রিকেট একাডেমির বাছাই করা শিশুরা সুযোগ পেলেন মহাতারকার কাছ থেকে দেখা ও ছোঁয়ার সুযোগ।

তুমুল করতালিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান প্রথম পা রাখলেন মঞ্চে। তার ঠিক পরেই ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। পাশাপাশি বসেই কোনো একটা রসিকতা করলেন কোহলি, যাতে হেসে উঠলেন দুজনই। এরপর পাকিস্তানের সরফরাজ আহমেদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার, আফগানিস্তানের গুলবদিন নাইব হয়ে বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশ অধিনায়কের পাশে বসলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি। সবশেষে মঞ্চে এলেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

৯ দলের অধিনায়কদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২৩ মে বৃহস্পতিবার লন্ডনে হওয়া এই সংবাদ সম্মেলনে প্রতিটি অধিনায়কই যার যার দল নিয়ে কথা বললেন। মাশরাফিও বাকিদের মতো আশার বেলুনটা উড়িয়ে রাখলেন। সরাসরিই মাশরাফি বললেন, এবারের আসরে যে কোনও দলকে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে বাংলাদেশের!

বিশ্বকাপ ক্রিকেট নাটকীয়তার আগমণী সুর বেজে উঠল সেন্ট্রাল লন্ডনের দা ফিল্ম শেড মঞ্চে,  যেখানে পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপের ১০ অধিনায়ক। ছবি : রয়টার্স

বিগত বিশ্বকাপ থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে সাফল্যের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মাশরাফির কাছে সঞ্চালকের প্রশ্ন সেই সাফল্যের রহস্য নিয়ে। কিভাবে পারল বাংলাদেশ? মাশরাফির বললেন, দলে সিনিয়র ও জুনিয়রদের দারুণ সমন্বয়ের কথা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ফাফ দু প্লেসির দিকে তাকিয়ে মাশরাফি বললেন, ‘আশা করি, ফাফের দলের বিপক্ষে শুরুটা ভালো করতে পারব আমরা। আমি আশা করি তোমার আশা পূরণ হবে না!’

এমন আত্মবিশ্বাসী উক্তির পেছনে যথেষ্ট কারণও আছে। সদ্য ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তার দল। তাতে ভূমিকা ছিলো পুরো দলের। এছাড়া পুরো দলটিই দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে গঠিত। সেই কথাটিই এগিয়ে আনলেন মাশরাফি, ‘দলটিতে দুর্দান্ত কিছু ছেলে আছে যারা সত্যিকার অর্থে রোমাঞ্চকর ক্রিকেট খেলছে।’

অবশ্য মাশরাফি স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে শুরুটা হতে হবে দারুণ, ‘ক্রিকেট এমনই একটি খেলা যেখানে আপনি যে কোনও দিন যে কাউকে হারাতে পারেন। আমরা সেক্ষেত্রে আশা করবো শুরুটা যেন ভালো কিছু হয়। এনিয়ে আত্মবিশ্বাসী, তবে সব কিছুই ভালো শুরুর ওপর নির্ভর করছে।’

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব